
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 11 June 2024 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই আন্দাজ করা যাচ্ছিল। হলও তাই। সোমবার আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিলেন। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহর নাম মুখে একবারও আনেননি সঙ্ঘ প্রধান। কিন্তু অনেকেই ঠাওর করতে পারছেন নিশানা কাদের দিকে?
এদিন নাগপুরে সঙ্ঘের সদর দফতরে মোহন ভাগবত বলেন, লোকসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোনও যুদ্ধ নয়। ভাগবতের কথায়, “যেভাবে প্রচারের পরস্পরের সমালোচনা করা হয়েছে, তাতে সমাজে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার কোনও খেয়াল রাখা হয়নি। বিনা কারণে আরএসএসের সংগঠনের কথাও টেনে আনা হয়েছে। প্রযুক্তি সাহায্য নিয়ে মিথ্যা প্রচার করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে শুধু মিথ্যা প্রচারের জন্য।”
আরএসএস প্রধান আরও বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। সেখানে দুটি পক্ষ থাকে। বিরোধীরা থাকেন। তাঁরা শত্রু নন। তাঁরা প্রতিপক্ষ। তারা একটি মত জানাচ্ছেন। সেটাও সকলের জানা উচিত। ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মর্যাদাটা যেন হারিয়ে না যায়। তা রক্ষা করতে হবে”।
#WATCH | Nagpur, Maharashtra: RSS chief Mohan Bhagwat says, "...Elections are an essential process of democracy. Since there are two sides in it there is a contest. Since it is a contest efforts are made to take oneself forward. But there is a dignity to it. Lies should not be… pic.twitter.com/cIjAtvkdTB
— ANI (@ANI) June 10, 2024
এবার লোকসভা ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেরকম হিন্দু-মুসলমান করে গেছেন, তা বেনজির। স্বাধীনোত্তর সময়ে কোনও প্রধানমন্ত্রী তা করেননি। শুধু তা নয়, অভিযোগ হল, তা করতে গিয়ে লাগাতার মিথ্যে কথা বলে গিয়েছেন মোদী। যা প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে অনভিপ্রেত এবং অশোভন। তা ছাড়া বিরোধীদের উদ্দেশে যে ধরনের মন্তব্য করে গিয়েছেন মোদী, তাতেও সামগ্রিক ভাবে মর্যাদাহানি হয়েছে বলেই অনেকের মত।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, আরএসএস তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের নেতারাও এই সার বুঝটা বুঝতে পারছেন। গত দশ বছরে বিজেপি কার্যত মৌলিক সত্তা হারিয়েছে। তা মোদী-শাহর পার্টিতে পর্যবসিত হয়েছে। সেখানে সমষ্টির মতের গুরুত্বও থাকেনি। ফলে এবার লোকসভা ভোটে মোদী ধাক্কা খাওয়ার পর ক্ষোভের জ্বালামুখ যে খুলে যাবে তা আন্দাজ করাই যাচ্ছিল। হয়েছেও তাই। গত দশ বছরে সঙ্ঘ প্রধানের কথায় এত অসন্তোষ দেখা যায়নি। সন্দেহ নেই সঙ্ঘ থেকে এ ব্যাপারটা বিজেপির দলের মধ্যেও চাড়িয়ে যাবে।