পরীক্ষা দিতে না পারা মানে একটা গোটা বছর নষ্ট। তখনই ছাত্ররা এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। হেলিকপ্টারে চড়ে পৌঁছে যান পরীক্ষাকেন্দ্রে।

হেলিকপ্টারে চড়ে পৌঁছে যান পরীক্ষাকেন্দ্রে
শেষ আপডেট: 8 September 2025 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত উত্তরাখণ্ড। বন্যা, ভূমিধসের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে রাস্তাঘাট। কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাই বলে জীবনের বহমানতা থেমে নেই।
এদিকে মুনসিয়ারিতে চলছে পরীক্ষা। ধসে বন্ধ রাস্তা। একটা পরীক্ষা দিতে না পারা মানে একটা গোটা বছর নষ্ট। তখনই ছাত্ররা এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। হেলিকপ্টারে চড়ে পৌঁছে যান পরীক্ষাকেন্দ্রে। পরীক্ষা দিয়ে ফেরেন একই পথে। এই ঘটনায় রীতিমতো প্রশংসার বন্যা বয়ে গিয়েছে।
ঠিক কী হয়েছিল?
রাজস্থানের বালোত্রা থেকে চার ছাত্র উত্তরাখণ্ডের হালদওয়ানিতে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টি আর ভূমিধসের কারণে রাস্তায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যেই তাঁদের পরীক্ষা ছিল। হালদ্বানি থেকে মুন্সিয়ারি পর্যন্ত যাতায়াত অসম্ভব হয়ে ওঠে।
ওমারাম চৌধুরী (নেওয়ারি গ্রাম), মাগারাম চৌধুরী (সিন্ধারি), প্রকাশ চৌধুরী (বাঙ্কিয়াওয়াস), আর লাকি চৌধুরী (গিদা) - এই চারজনই উত্তরাখণ্ড ওপেন ইউনিভার্সিটির দূরশিক্ষা বিভাগ থেকে বি.এড. করছেন। ৩ সেপ্টেম্বর তাঁদের চূড়ান্ত সেমেস্টারের পরীক্ষা ছিল মুনসিয়ারির আর.এস. টোলিয়া পিজি কলেজে।
হালদওয়ানি পর্যন্ত সড়কপথে পৌঁছালেও, এর পর আর এগোনো যায়নি। ট্যাক্সিচালকরাও তাঁদের নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন, কারণ হালদওয়ানি–পিথোরাগড় ও তানাকপুর–পিথোরাগড় সড়ক ধসে বন্ধ হয়ে ছিল।
ঠিক তখনই ছাত্ররা হেলিকপ্টার পরিষেবা সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁরা হেরিটেজ এভিয়েশনের সিইও-কে অনুরোধ করে গোটা বিষয়টা জানান। বোঝান যে, পরীক্ষা না দিতে পারলে গোটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে। কোম্পানি বিশেষ ব্যবস্থায় দুই পাইলট-সহ একটি হেলিকপ্টার পাঠায়।
২৫–৩০ মিনিটের যাত্রায় তাঁরা নিরাপদে পৌঁছান পরীক্ষাকেন্দ্রে, পরীক্ষা দিয়ে ফেরেন হালদওয়ানিতে।
খরচ কত পড়ল?
প্রতি ছাত্রকে একমুখী যাত্রার জন্য প্রায় ৫,২০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। অর্থাৎ যাওয়া–আসা মিলিয়ে প্রতিজনের খরচ হয়েছে প্রায় ১০,৪০০ টাকা। সড়কপথে হালদওয়ানি থেকে মুনসিয়ারির দূরত্ব প্রায় ২৮০ কিমি, যা সাধারণত ১০ ঘণ্টা লাগে। সেখানে হেলিকপ্টারে মিনিট খানেকেই যাত্রা শেষ।
পরীক্ষা নির্বিঘ্নে দিতে পেরে হাসি ফুটেছে ছাত্রদের মুখে। একজন ছাত্র ওমারাম বললেন, “প্রথমে আমরা খুব হতাশ হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম বছরটা নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু হেলিকপ্টার সার্ভিসের জন্য আমরা পরীক্ষা দিতে পেরেছি।”
আরেকজন ছিলেন মাগারাম। তাঁর কথায়, “হেলিকপ্টারে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনো যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই ছিল তৃপ্তিদায়কও। কারণ অবশেষে আমরা ফাইনাল সেমেস্টারের পরীক্ষা দিতে পেরেছি।”