
প্রসন্ন শঙ্কর ও দিব্যা শশীধর। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 March 2025 15:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক বিলিয়ন ডলারের টেক কোম্পানির মালিক প্রসন্ন শঙ্করের সঙ্গে তাঁর 'প্রাক্তন' স্ত্রী দিব্যা শশীধরের এক্স-যুদ্ধে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে নেট দুনিয়ায়। দুজনেই দুজনের বিরুদ্ধে ৯ বছরের ছেলেকে অপহরণ, নাবালক সন্তানকে জোর করে আটকে রাখা, বিশ্বাসভঙ্গ, বিকৃত যৌনমনস্কতা, বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। যা নিয়ে চেন্নাই পুলিশ আপাতত ধনী ব্যবসায়ী প্রসন্নকে হন্যে হয়ে খুঁজছে বলে দাবি শঙ্করের। পুলিশের চোখ এড়াতে তিনি লুকিয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে এক্স বার্তায় কাতর আবেদন জানিয়েছেন।
স্ত্রী দিব্যা শশীধরের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসের আচরণ এবং ৯ বছরের ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ তুলে রবিবার প্রসন্নের এক্স পোস্টের পর মার্কিন নাগরিক দিব্যা চেন্নাই পুলিশের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। তাঁরও অভিযোগ, প্রসন্ন জোর করে তাঁর ৯ বছরের ছেলেকে অপহরণ করে আটকে রেখেছেন। অত্যন্ত যৌনক্ষুধা ও যৌন বিকৃতিগ্রস্ত প্রসন্নের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও জানিয়েছেন চেন্নাই পুলিশকে। একটি ভিডিও পোস্টে তিনি এইসব অভিযোগ তুলেছেন, যা সোমবারের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
দিব্যার অভিযোগ, আমাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের সমস্যা চলছে। বিচ্ছেদের মামলাও চলছে। এর মধ্যে আমার স্বামীর ব্যক্তিগত সহকারী বলে পরিচয় দিয়ে গোকুলকৃষ্ণ নামে এক ব্যক্তি আমার ছেলেকে জোর করে নিয়ে গিয়েছে। আমি পুলিশে জানিয়েছি, কারণ আমি জানতে চাই আমার ছেলে এখন কোথায় আছে? আমি পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছি, আমার ছেলেকে খুঁজে বের করে আমার কাছে ফেরত দেওয়া হোক।
দিব্যা আরও বলেন, এখন আমি বুঝতে পারছি না কী করব। মার্কিন দূতাবাস এবং চেন্নাই পুলিশ আমাকে সাহায্য করছে। আমার ছেলেকে স্বামীর পিএ ভয় দেখিয়ে আটকে রেখেছে কিনা তাও জানি না। দিব্যার আরও অভিযোগ, সান ফ্রান্সিসকোতে যৌনকর্মীর দালালি করার অভিযোগে আমার স্বামীর চাকরি যায় আমেরিকায়। ও আমার ও আমার পরিবারের কাছে এসব গোপন করে এবং আমাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে চলে যায়। আমার স্বামী একজন যৌন বিকৃত পুরুষ। সিঙ্গাপুরেও ওকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল এবং শর্তসাপেক্ষে সে জামিন পায়। দিব্যার দাবি, প্রসন্ন মহিলাদের যৌন নিগ্রহ করার ছবি তোলে গোপন ক্যামেরায় এবং এ ধরনের হেনস্তা ওর সঙ্গে করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ তোলে।
অন্যদিকে, দিব্যার আগে প্রসন্নর তোলা অভিযোগ হল, দিব্যা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রসন্নের এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল এমনকী যৌন সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, ছেলের অধিকার নিয়ে তিনি একটি মামলায় জিতে যাওয়ার পর দিব্যা তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনেছেন। যে কারণে চেন্নাই পুলিশ তাঁকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। এক্স পোস্টে লিখেছেন, এখন চেন্নাই পুলিশ ও তাঁর স্ত্রীর হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। স্ত্রী দিব্যার সঙ্গে অন্য পুরুষের সম্পর্কের বেশ কিছু প্রমাণও দিয়েছেন প্রসন্ন। তাঁর স্ত্রী পরপুরুষকে বড় সাইজের কন্ডোম আনতে বলেছেন, এই প্রমাণও দেন টেক ব্যবসায়ী।
প্রসন্নর দাবি, দিব্যার জন্যই তাঁদের সম্পর্ক ভেঙেছে। দিব্যার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় ত্রিচিতে এনআইটিতে পড়ার সময়। ১০ বছরের বিয়েতে তাঁদের ৯ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, আমাদের সম্পর্ক শেষ হয় যখন জানতে পারি অনুপ নামে একজনের সঙ্গে তার ৬ মাস ধরে অবৈধ সম্পর্ক চলছে। অনুপকে পাঠানো দিব্যার মেসেজের স্ক্রিনশট দিয়েছেন প্রসন্ন। যাতে লেখা আছে, তুমি আমার জন্য বড় সাইজের এক্সএল কন্ডোম কিনে আনতে পারবে? এই মেসেজের উত্তর দিও না। আমি এখনই এটা ডিলিট করে দেব। প্রসন্নের দাবি, এই মেসেজের স্ক্রিনশট তাঁকে দিয়েছেন অনুপের স্ত্রী। আরেকটি মেসেজের স্ক্রিনশটে রয়েছে, দিব্যার ই-মেল আইডি থেকে দুই শয্যার একটি হোটেল রুম বুক করার। প্রসন্ন আরও লিখেছেন, এইসব জানাজানি হওয়ার পর ও বিচ্ছেদের জন্য চাপ দেয় এবং অতিরিক্ত ডলার পাওয়ার লোভে আমেরিকায় অভিযোগ দায়ের করে। যাতে আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আসে ও। প্রমাণ দেখাতে নিজের নগ্ন ছবি দেখায়। উল্লেখ্য, স্বামী-স্ত্রীর এই অভিযোগ নিয়ে চেন্নাই পুলিশের কোনও বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।