.webp)
শেষ আপডেট: 24 July 2024 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার নির্মলা সীতারমন বাজেট ভাষণ শেষ করার পর পরই বাংলার প্রতি বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়েছিল শাসক দল সিপিএম। অর্থমন্ত্রীর ভাষণ চলাকালে কক্ষত্যাগও করেন বাংলার সাংসদেরা। কালক্ষেপ না করে সেই অভিযোগ খণ্ডন করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। উল্টে বাংলা বরাদ্দ খরচ করতে পারে না বলে সরব হন তিনি।
মঙ্গলবার একই সুরে বাংলার প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ উড়িয়ে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, গত দশ বছরে নরেন্দ্র মোদী বাংলাকে অনেক দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। রাজ্য সরকার টাকা খরচ করতে পারে না। তাই বঞ্চনার অভিযোগ তোলার স্পর্ধা বাংলার সাংসদদের মানায় না।
কলকাতায় মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির তরফে বিধায়ক তথা দলের অর্থনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান অশোক লাহিড়ী সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলার প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ খণ্ডন করেন। বুধবার সংসদের ভিতকে বাইরে দেখা গেল বিরোধী দল হিসাবে সংসদের ভিতরে ও বাইরে একাধিক রাজ্যের বিরোধী দলও রাজ্যের প্রতি বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের অন্যতম উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। সংসদ কক্ষের বাইরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে অখিলেশ অভিযোগ করেন উত্তর প্রদেশের প্রতি চরম বঞ্চনা করা হয়েছে এবারের বাজেটে।
উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে বিজেপি ক্ষমতায়। ওই বছর অখিলেশকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন যোগী আদিত্যনাথ। এখনও দেশের বৃহত্তম রাজ্যটিতে ক্ষমতায় বিজেপি। কিন্তু অখিলেশ রাজ্যের প্রতি বঞ্চনা নিয়ে সরব হন অধিবেশন কক্ষেও। তিনি বলার সময় চুপ করে ছিলেন যোগী রাজ্যের বিজেপি সাংসদেরা।
কেরলে ২০১৬ থেকে ক্ষমতায় সিপিএম। কিন্তু রাজ্যের ১৯জন কংগ্রেস সাংসদ আজ সংসদ ভবনের দরজায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের প্রতি বঞ্চনা নিয়ে সরব হন। তাঁদের পাশে ছিলেন কেরলের একমাত্র সিপিএম সাংসদও।
বঙ্গ সিপিএমও কেন্দ্রীয় বাজেটে রাজ্যের প্রতি বাংলার প্রতি বঞ্চনার তীব্র সমালোচনা করেছে মোদী সরকারের। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, বাজেটে প্রাদেশিকতাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। বাংলার বন্যা প্রতিরোধ, নদী ভাঙন ঠেকানোর প্রকল্প, উত্তরবঙ্গ-সহ পিছিয়ে পড়া এলাকার জন্য বরাদ্দ নেই।
সিপিএমের এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। তৃণমূল জমানাতেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতি বঞ্চনার ইস্যুতে সরব হয়েছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অল্পদিনের ব্যবধানে কলকাতা সফরে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সিপিএমের তরফে রাজভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের বকেয়া পাওনা এবং প্রকল্পগুলি মঞ্জুর করার জন্য আর্জি জানানো হয়েছিল।
তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সংসদে বামেদের একমাত্র মুখ রাজ্যসভার সদস্য বিকাশ ভট্টাচার্য রাজ্যের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ মেনে নিয়েও দাবি করেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারই শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জানাক কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে আর খরচই বা হয়েছে কতটা।