
শেষ আপডেট: 18 November 2023 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬ দিন কেটে গেছে। উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় ভেঙে পড়া টানেলের তলায় ৪০ জন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও উদ্ধার করা যায়নি কাউকেই। উল্টে, পাথর কেটে এগোনোর মাঝেই শোনা গেল চিড় ধরার আওয়াজ। আর তারপরেই বন্ধ করে দিতে হল কাজ।
গত রবিবার উত্তরকাশী জেলার সিলকিয়ারার কাছে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল একটি ৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নির্মীয়মাণ টানেলের বেশ কিছুটা অংশ। সেই সময় সেখানে কাজ করা ৪০ জন শ্রমিক চাপা পড়েছিলেন ধ্বংসস্তূপের তলায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলার শ্রমিকরাও। সেই ঘটনা জানতে পারার পরেই রাজ্য এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফে যন্ত্রপাতি নিয়ে গিয়ে ভেঙে পড়া অংশ সরিয়ে এবং ড্রিল মেশিন দিয়ে পাথর কেটে শ্রমিকদের উদ্ধার করার কাজ শুরু হয়েছিল। এখন সেই উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে বিদেশি উদ্ধারকারী দলও।
ভেঙে পড়া সুড়ঙ্গের ভেতর পাইপ প্রবেশ করিয়ে সেখান দিয়ে জল, খাবার এবং অক্সিজেন পাঠানো চলছিল। সেসবের জন্য শ্রমিকদের কারও প্রাণহানি না হলেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা চালিয়েও সুড়ঙ্গের ভিতর আটকা পড়ে থাকা শ্রমিকদের কাছ পর্যন্ত পৌঁছানো যায়নি। তার মধ্যে উদ্ধার কাজ চলার মাঝখানেই একাধিকবার ধস নামে ওই এলাকায়। সেসব সত্ত্বেও ড্রিল মেশিন দিয়ে পাথরে ফুটো করে চাঙড় সরিয়ে এগিয়ে যাওয়া চলছিল।
শুক্রবার দুপুর পৌনে তিনটা নাগাদ কাজ চলার মাঝেই পাথরে ফাটল ধরার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। তারপরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়ায়। আবার বড়সড় অংশ ভেঙে পড়তে পারে আশঙ্কা করেই বন্ধ করে দেওয়া হয় ড্রিল। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে এগোনো সম্ভব তা আলোচনা করে খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
ভেঙে পড়া টানেলটি তৈরি করা হচ্ছিল সিলকিয়ারা থেকে ডান্ডালগাঁও পর্যন্ত রাস্তার দূরত্ব কম করার জন্য। চারধাম যাত্রার পথ আরও সংক্ষিপ্ত এবং সহজ করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। রবিবার ওই দুর্ঘটনার পর বিশালাকার ড্রিল মেশিনের সাহায্যে ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিমিটার চওড়া পাইপ ঢুকিয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছিল। চারটি পাইপ ইতিমধ্যেই বসানো হয়ে গিয়েছিল, পঞ্চম পাইপটি ঢোকানোর কাজ চলছিল।
কিন্তু সেই কাজ চলার সময় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আর নতুন করে সেটি ভিতরে ঢোকানো যাচ্ছিল না তো বটেই, সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ড্রিল মেশিনটিও। তার মাঝেই ফের বন্ধ হয়ে গেল উদ্ধারকাজ। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ এগোনো হবে তা নিয়ে একদিকে যেমন চিন্তায় আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিজনরা, তেমনই চিন্তার ভাঁজ উদ্ধারকারী দলের সদস্যের কপালেও।