
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 March 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুসকান রাস্তোগি, সাহিল শুক্লা ও মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম। তাঁদের নাম ঘোরাফেরা করছে সবদিকেই। ২০১১ সালে তাঁদের প্রথম দেখা হয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব, প্রেম এবং পরিণতি ভয়ঙ্কর এক হত্যাকাণ্ড। মেরঠের সৌরভ ও মুসকানের সম্পর্কের শুরুটা রূপকথার মতো হলেও শেষটা হল বিভীষিকাময়।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে মুসকানের সঙ্গে পরিচয় হয় সৌরভের। পারিবারিক সূত্রেই তাদের আলাপ। মুস্কানের ঠাকুরদা ছিলেন জ্যোতিষী, সৌরভের মা রেণু রাজপুত জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। সেই সূত্রেই রেণু মাঝেমধ্যেই মুস্কানের বাড়িতে যেতেন, সঙ্গে যেতেন সৌরভও। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেম। পাঁচ বছর ধরে সম্পর্ক চলার পর সৌরভ মুসকানকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, কিন্তু বয়স কম হওয়ায় পরিবার তা মেনে নেয়নি।
স্কুল শেষ করে মার্চেন্ট নেভির পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন সৌরভ। এরপর লন্ডনের একটি সংস্থায় চাকরি পান। দূরত্ব বাড়লেও সম্পর্ক অটুট ছিল। তবে ২০১৬ সালে আচমকাই দেশে ফিরে আসেন সৌরভ এবং রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান। পরে পুলিশ দু’জনকে খুঁজে বের করে, কিন্তু প্রেমে অনড় সৌরভ আবারও মুসকানের সঙ্গে পালিয়ে যান। কিছুদিন পর ফিরে এসে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করেন তাঁরা।
বিয়ের পর প্রথমে শ্বশুরবাড়িতেই থাকছিলেন মুসকান। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকত। শেষে সৌরভ পরিবার ছেড়ে আলাদা হয়ে মুসকানকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে চলে যান। এতে সৌরভের বাবা ভীষণ কষ্ট পান এবং ছেলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
এই সময়েই মুসকানের জীবনে ফিরে আসেন তার পুরনো স্কুল বন্ধু সাহিল। একসময় একসঙ্গে স্কুলে পড়লেও পরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারা আবার কথা বলা শুরু করে। তখন পর্যন্ত সৌরভ লন্ডনে কর্মরত। একাকী মুস্কান ধীরে ধীরে সাহিলের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। শুরু হয় একসঙ্গে সময় কাটানো, বাইরে ঘুরতে যাওয়া। বাড়ির মালিক বিষয়টি সৌরভকে জানান। দেশে ফিরে এসে সৌরভ মুসকানকে সতর্ক করেন, কিন্তু তিনি কোনও কথা না শুনে আবারও সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকেন।
তত দিনে তাদের দাম্পত্যে ফাটল চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। একসময় সৌরভ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। তবে মেয়ের কথা ভেবে পরিবার তাকে সম্পর্ক ঠিক করার পরামর্শ দেয়। কিছুদিনের জন্য অশান্তি মিটলেও মূল সমস্যা থেকেই যায়।
২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল মুসকানের জন্মদিন। সৌরভ সারপ্রাইজ দিতে লন্ডন থেকে ফিরে আসেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি কন্যাসন্তানের জন্মদিনেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। কিন্তু মুস্কানের মনে তখন অন্য পরিকল্পনা। তারপর ৩ মার্চ নিজের বাড়িতে যান সৌরভ। ৪ মার্চ রাতে তার প্রিয় খাবার লাউয়ের কোফতা রান্না করে আনেন মুসকানের ভাড়া বাড়িতে। কিন্তু খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় ঘুমের ওষুধ ও মাদক।
সৌরভ অচৈতন্য হয়ে পড়লে মুসকান ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করেন। এরপর সাহিলকে ডেকে আনেন এবং দু’জনে মিলে দেহ টুকরো টুকরো করে কনক্রিট ভর্তি ড্রামে লুকিয়ে রাখেন। তার পর সিমেন্ট ভরে সেই ড্রামের মুখ আটকে দেন। কিন্তু জানেন কি, সৌরভ-মুসকানের প্রেমের গল্প একসময় এলাকার মানুষদের কাছে রূপকথার মতো ছিল। সেই সম্পর্কের পরিণতি এমন এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডে গিয়ে ঠেকবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে মুসকান ও সাহিলকে গ্রেফতার করেছে। তারা এখন আইনি বিচারের মুখোমুখি।