গত বছরের অগস্টে, হামলার আগে ইয়াসির প্ল্যান থেকে পিছিয়ে যান। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, ঘরে মেরামতির কাজ চলছিল আর আপেল তোলার মরসুম ছিল।

দিল্লি বিস্ফোরণ
শেষ আপডেট: 18 January 2026 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের (Red Fort blast) তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন আতঙ্কের ছবি। শুধুই বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নয়, একটি সাজানো 'হোয়াইট কলার টেরর মডিউল'-এর অস্তিত্ব মিলেছে তদন্তে। এই নেটওয়ার্কের মূল চক্রী হিসেবে উঠে আসে কাশ্মীরের তরুণ চিকিৎসক উমর-উন নবির নাম (Umar-un Nabi terror module)। তিনি শুধু জঙ্গি কার্যকলাপেই জড়িত ছিলেন না, বরং একাধিক আত্মঘাতী হামলাকারী নিয়োগ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দু’জনই পিছিয়ে যায়, তাই পরিকল্পনা সফল করতে শেষ পর্যন্ত নিজেই আত্মঘাতী হামলাকারী (White-collar terrorism India) হয়ে লালকেল্লার কাছে গিয়েছিলেন।
তদন্তে কী সামনে এল?
শ্রীনগর পুলিশ ও এনআইএ-র তদন্তে (NIA investigation) জানা গেছে, ১০ নভেম্বর ২০২৫-এ লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের আগে থেকেই নবি আলাদা একটি আত্মঘাতী স্কোয়াড তৈরি করছিলেন। প্রথমেই দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা ইয়াসির আহমেদ দারকে আত্মঘাতী হামলার জন্য তৈরি করেছিলেন তিনি। ইয়াসির তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, নবি একজন ডাক্তার হওয়ায় তাঁর কথায় অনেকেই সহজেই ভরসা করতেন। ২০২৩ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইয়াসিরের। নিয়মিত টেলিগ্রামে কথাবার্তা, শরীরচর্চার পরামর্শ- সব মিলিয়ে তাঁকে আত্মঘাতী হামলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
কিন্তু গত বছরের অগস্টে, হামলার আগে ইয়াসির প্ল্যান থেকে পিছিয়ে যান। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, ঘরে মেরামতির কাজ চলছিল আর আপেল তোলার মরসুম ছিল। সেই সময় বাড়িতে থাকা এবং পরিবারের সাহায্য করা তাঁর কাছে বেশি জরুরি ছিল।
দ্বিতীয় ‘বোমারু’ও পিছিয়ে যায়
আরও একজন যুবক, জাসির ওরফে দানিশকে আত্মঘাতী হামলার (Suicide Attak) জন্য তৈরি করছিলেন নবি। স্নাতক জাসিরকে ‘ওভার-গ্রাউন্ড কর্মী’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছিল টিমটি। কিন্তু নবি তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ব্রেনওয়াশ করে আত্মঘাতী হামলাকারী বানানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনিও শেষমেশ পিছিয়ে যান (failed suicide bomber recruitment), জানান, আর্থিক সংকট রয়েছে এবং তাঁদের ধর্মে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ।
কীভাবে তৈরি হচ্ছিল বোমা?
তদন্তে উঠে এসেছে, নবি ও তাঁর সহযোগী ডঃ মুজাম্মিল গনাই ২০২১ সালে তুরস্কে গিয়ে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের ওভারগ্রাউন্ড কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর থেকেই তাঁরা বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সংগ্রহ করতে শুরু করেন। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, সালফার, পটাশিয়াম নাইট্রেট, মোট ৩৬০ কেজিরও বেশি রাসায়নিক মজুত ছিল ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তির দিন দিল্লি বা ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনও স্থানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল নবির।
কীভাবে ফাঁস পুরো নেটওয়ার্ক?
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শ্রীনগরের নওগামে জইশের পোস্টার (JeM terror network) উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি দেখে তিন যুবককে আটক করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে সামনে আসে একাধিক নাম, মৌলভি ইরফান আহমেদ, যিনি পোস্টার সরবরাহ করতেন ও ডাক্তারদের মাধ্যমে জঙ্গি মতাদর্শ ছড়াতেন।
এই তদন্তের পরেই ধীরে ধীরে ফাঁস হয় ডঃ নবি পরিচালিত পুরো হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক- (White-collar terrorism India) যার পরিণতিই হয় লালকেল্লায় বিস্ফোরণ (Red Fort car bombing)। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেফতার হয়েছে এবং এনআইএ আরও জটিল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে।