
রেপো রেট নামিয়ে আনা হল ৬ শতাংশে।
শেষ আপডেট: 9 April 2025 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন অর্থবছরের শুরুতেই দেশের আর্থিক নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে রেপো রেট নামিয়ে আনা হয়েছে ৬ শতাংশে (RBI repo rate cut)। এর ফলে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ঋণের ইএমআই কমবে, ব্যাঙ্কগুলোর ঋণ প্রদানের খরচও কমবে।
আজ বুধবার, আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, মানিটারি পলিসি কমিটি (MPC) সর্বসম্মতভাবে রেপো রেট হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই বছর এটিই দ্বিতীয়বার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট কমাল। এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেপো রেট কমিয়ে ৬.২৫ শতাংশ করা হয়েছিল। এখন আরও একধাপ কমিয়ে তা দাঁড়াল ৬ শতাংশে।
রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যার ভিত্তিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদী ঋণ দেয়। এই হার কমলে, ব্যাঙ্কগুলিও গ্রাহকদের কম হারে ঋণ দিতে পারে। ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ে হোম লোন, পার্সোনাল লোন এবং অন্যান্য ইএমআই ভিত্তিক ঋণের উপর।
সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের রফতানির উপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক (reciprocal tariff) আরোপ করেছেন। এই কথা মাথা রেখে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, 'এই অর্থবছরের শুরুতেই বিশ্বের অর্থনীতি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।' এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘাত দেশের আমদানি-রফতানির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, 'বিশ্বব্যাপী আর্থিক বৃদ্ধিকে ধাক্কা দেবে বাণিজ্য সংঘাত এবং তার প্রভাব পড়বে দেশের ঘরোয়া হিসেবেও। উচ্চ শুল্ক নেট এক্সপোর্টেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারত আমেরিকার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।' যদিও তিনি স্বীকার করেন, এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রভাব এখনই নির্ধারণ করা কঠিন, তবুও আরবিআই ঘরোয়া প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে আত্মবিশ্বাসী।
আরবিআই গভর্নরের মতে, কৃষি খাতের সম্ভাবনা উজ্জ্বল এবং উৎপাদন খাতেও পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত মিলছে। পরিষেবা খাত স্থিতিশীল রয়েছে এবং শহুরে গ্রাহকদের মধ্যে খরচ করার প্রবণতা বাড়ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে উৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, 'ব্যাঙ্ক এবং কর্পোরেটদের ব্যালান্স শিটও এখন সুস্থ ও স্থিতিশীল।' এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মনে করছে, মূল সুদের হার কমিয়ে বাজারে আরও সক্রিয়তা আনা সম্ভব।
মানিটারি পলিসি কমিটির পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত লক্ষ্যের নীচে রয়েছে। খাদ্যপণ্যের দামে বড় পতনের কারণে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে, যা এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নের পথ সুগম করেছে।