
পুরীর জগন্নাথ বিগ্রহ।
শেষ আপডেট: 19 June 2024 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরী জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভাণ্ডারের দরজা খুলবে আগামী ৮ জুলাই অথবা তার পরে। ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের এক আধিকারিক বুধবার একথা জানান। পুরী সার্কলের এএসআইয়ের সুপার দিবিশাদ গড়নায়ক জানান, ৮ জুলাই অথবা তার পরদিন রত্নভাণ্ডারের ইন্সপেকশন হবে। তাতে কোর কমিটি এবং টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
প্রসঙ্গত, এ বছর রথযাত্রা ৭ ও ৮ জুলাই দু'দিন পড়েছে। তাই সম্ভবত তার পরেই রত্নভাণ্ডার খুলে দেখা হবে। রত্নভাণ্ডারের গঠনগত অবস্থা খতিয়ে দেখবে এএসআই। গতবছর বাইরের দেওয়ালের লেজার স্ক্যানিংয়ে বেশকিছু ফাটল এবং জোড়া এলাকায় চিড় ধরেছে বলে দেখা গিয়েছিল। এই ফাটলগুলি থেকে বৃষ্টির জল চুঁইয়ে ভিতরে পড়তে পারে। সবমিলিয়ে বহু প্রাচীন এই রত্নভাণ্ডারের অবস্থা ভাল নয় বলে জানান গড়নায়ক।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহের কাছেই রয়েছে রত্নভাণ্ডার। এটাই মন্দিরের সবথেকে দামি প্রকোষ্ঠ। যুগ যুগ ধরে এখানে জমা হয়ে রয়েছে, জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রার রত্নরাজি। হিরে, পান্না, চুনী, মুক্তোখচিত স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার। যার কিছুর দাম ধরা যেতে পারে, আর অসংখ্য এমন গয়না আছে, এখন যা দুষ্প্রাপ্য। মূল্যের নিক্তিতে যাকে ধরা যায় না।
এই রত্নভাণ্ডারের দুটি প্রকোষ্ঠ আছে। বাইরেরটি বিভিন্ন পালাপার্বণে খোলা থাকে। যেমন জগন্নাথের স্বর্ণবেশের সময়। কিন্তু, অন্দর মহলটি ১৯৭৮ সাল থেকে বন্ধ পড়ে রয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরের আইন অনুযায়ী, তিন বছর অন্তর এই প্রকোষ্ঠের অডিট হওয়ার কথা। কিন্তু, বন্ধ পড়ে থাকায় সেই থেকে কোনও অডিটও হয়নি।
এ বছর জানুয়ারিতে হাইকোর্টে জমা দেওয়া এক হলফনামায় মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, রত্নভাণ্ডারে আনুমানিক ১৪৯.৪৭ কেজি সোনা এবং ১৯৮.৭৯ কেজি রুপোর গয়না ও বাসনপত্র আছে। গত বিধানসভা ভোটেও জগন্নাথদেবের রত্নভাণ্ডার প্রচারের ইস্যু হয়ে উঠেছিল। বিজেপি রত্নভাণ্ডারের চাবি হারানোর জন্য বিজেডি সরকারকে কাঠগড়ায় তোলে।