
শেষ আপডেট: 17 December 2023 09:36
অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। পাশাপাশি চলছে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মন্দির তৈরির দায়িত্বে আছে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। ওই সংগঠনের তরফে দেশের সাধু সন্তদের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত চলচ্চিত্র, নাটক, সাহিত্য, খেলা, শিল্পকলার সঙ্গে যুক্ত মানুষ এবং প্রথমসারির শিল্পপতিরাও। সবমিলিয়ে আমন্ত্রিতের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার।
কিন্তু এই তালিকায় নাম নেই বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের। মন্দির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের প্রথমসারির প্রায় সকলেই ২২ জানুয়ারি মন্দির উদ্বোধন এবং রামলালার মূর্তি প্রতিষ্ঠার দিন অযোধ্যায় থাকবেন।
বিরোধী দলের কোনও নেতা-নেত্রীকেই এখনও পর্যন্ত আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অযোধ্যার অস্থায়ী রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাস এই ব্যাপারে দ্য ওয়াল’-এর কাছে মুখ খুললেন। টেলিফোনে তিনি বলেন, রাম মন্দির নির্মাণ আন্দোলনের যাঁরা বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের কাউকেই ডাকা হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস আদালতে গিয়েছিল মন্দির নির্মাণ আটকাতে। ওই দলের নেতা প্রচার করত, রামের কোনও অস্তিত্ব নেই। এমন দলের নেতাদের কী করে ডাকা যেতে পারে?
অযোধ্যার অস্থায়ী রামমন্দিরের এই প্রধান পুরোহিত রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র সময় খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। বিজেপি-সহ হিন্দুত্ববাদীরা যখন যাত্রা নিয়ে রাহুলকে আক্রমণ শানাচ্ছিলেন তখন এই প্রবীণ পুরোহিত কংগ্রেস নেতার কর্মসূচির প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘রাহুল গান্ধী ভাল কাজ করছেন।’ কংগ্রেস নেতাকে তখন অযোধ্যায় আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন এই মহন্ত। তাতে সামান্য বিতর্ক হয় রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করায়। কিন্তু রামমন্দির উদ্বোধনে কংগ্রেস নেতাদের না ডাকার পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন এই প্রবীণ।
যদিও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর দাবি, অযোধ্যায় যে রামমন্দির তৈরি হচ্ছে সেটির আসল কারিগর তাঁর বাবা প্রয়াত রাজীব গান্ধী। রাজীব প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বাবরি মসজিদের তালা খোলার ব্যবস্থা করেন এবং রামলালার পূজা শুরু হয়। প্রিয়াঙ্কার কথায়, বাবা উদ্যোগ না নিলে মন্দির আজ হতোই না।
শুধু প্রিয়ঙ্কা নন, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটের আগে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়ে কংগ্রেস বিজেপির হিন্দুত্বের মোকাবিলায় অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের কৃতিত্ব দাবি করে।
রামমন্দিরের প্রধান পূজারি অবশ্য তা মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, মন্দির-মসজিদ বিবাদ নিয়ে ফৈজাবাদ আদালতে হওয়া মামলায় বিচারক মসজিদের তালা খোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছেন বলে প্রচার ছিল। বাস্তবে কেমন কিছুই ছিল না। সবটাই প্রচার। নথিপত্র থেকে সেটা জানার পর মসজিদের তালা খোলার ব্যবস্থা হয়। এর সঙ্গে কংগ্রেস বা রাজীব গান্ধীর কোনও সম্পর্ক নেই।
বিরোধীদের ডাকা না হলেও আচার্যের বক্তব্য, কেউ যদি উদ্বোধনের দিন মন্দির দর্শন করতে চলে আসেন, তাঁকে তো তখন ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। আশা করি এলেও তাঁরা বিতর্ক এড়িয়ে চলবেন।
তবে পূজারী যাই বলুন, আমন্ত্রণ পেলে কংগ্রেস সহ বিরোধী নেতারা কী করবেন, তাও স্পষ্ট নয়। বিরোধীদের বেশিরভাগই উদ্বোধন পর্ব এড়িয়ে চলার পক্ষপাতী। অনেক নেতাই ২২ জানুয়ারির পর মন্দির দর্শনের পরিকল্পনা করেছেন।