
অবশেষে ধরা পড়েছে রামেশ্বরম ক্যাফে বিস্ফোরণ মামলার দুই অভিযুক্ত - দ্য ওয়াল ফাইল।
শেষ আপডেট: 12 April 2024 19:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘটনার প্রায় দেড় মাস পরে অবশেষে এনআইএ-র জালে ধরা পড়ল বেঙ্গালুরুর রামেশ্বরম ক্যাফে বিস্ফোরণ কাণ্ডের দুই অভিযুক্ত। দীঘার একটি হোটেল থেকে এনআইএ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কর্নাটক পুলিশ ও কেরল পুলিশের এক যৌথ অভিযানে ধরা হয়েছে দুই অভিযুক্ত আব্দুল মতিন ত্বহা ও মুসাবির হোসেন সাজিবকে। এনআইএ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। এক বিবৃতিতে এনআইএ জানিয়েছে, হোটেলে দুই অভিযুক্ত ভুয়ো পরিচয় দিয়ে থাকছিল। কিন্তু নজর এড়ায়নি পুলিশের। শুক্রবার কাকভোরে সাদা পোশাকের পুলিশ আধিকারিকরা হোটেলে হানা দিয়ে হাতেনাতে ধরেন দুই অভিযুক্তকে।
কী ঘটেছিল আসলে রামেশ্বরম ক্যাফেতে?
দ্য ওয়ালের বিশেষ প্রতিবেদন
১। শুক্রবার, ১ মার্চের নিরিবিলি ব্যস্ত দুপুর দেড়টা। বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড এলাকার বিখ্যাত রামেশ্বরম ক্যাফেতে তখন জনাচল্লিশেক লোকের ভিড়। হঠাৎই দেখা গেল, রান্নাঘরের দিক থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র বিস্ফোরণের আওয়াজ! অন্তত নয় জন আহত হ'ন, তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। খবর পেয়ে দ্রুত চলে আসে দমকল। আসেন বেঙ্গালুরু ও কর্ণাটক রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা।
২। প্রাথমিকভাবে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়ত সিলিন্ডার ফেটেছে! কিন্তু পরে রহস্য ঘনীভূত হয়। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় একজন ক্রেতা একটি ব্যাগ ফেলে যায়, সম্ভবত সেটাই বিস্ফোরণের উৎস। আসরে নামেন বেঙ্গালুরু দক্ষিণের বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য। বলেন, তিনি ওই ক্যাফের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মালিক শ্রী নাগরাজ নিজেই জানিয়েছেন একজন ক্রেতার ব্যাগ ফেলে যাওয়ার কথা। এটা সিলিন্ডার ফাটার ঘটনা হতে পারে না, স্পষ্ট মনে হচ্ছে বোমা বিস্ফোরণ।
৩। তদন্ত সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে হাজির হ'ন কর্ণাটক পুলিশের ডিজি অলোক মোহন, বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার বি দয়ানন্দ। বেঙ্গালুরু পুলিশের তরফে হ্যাল থানায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধে ব্যবহৃত 'ইউএপিএ' আইনে মামলা দায়ের হয়। আসেন ফরেন্সিক বিভাগের কর্তারা।
৪। ৩ মার্চ ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। শীর্ষ কর্তারা তদন্তে নামেন। জানা যায়, ব্যবহার করা হয়েছিল আইইডি বা 'ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস'।
৫। প্রায় ৩০০ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দক্ষিণ ভারত জুড়ে চিরুণি তল্লাশি শুরু করে এনআইএ। কর্নাটক, কেরল, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ুর একাধিক শহরের সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে দেখা শুরু হয়। অবশেষে মূল সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে এনআইএ। জানা যায়, মুসাবির হোসেন সাজিব এই হামলার 'মাস্টারমাইন্ড'। সঙ্গী ছিল ত্বহা। দু'জনেই কর্ণাটকের শিবমোগা জেলার তীর্থহল্লির বাসিন্দা। মুসাবির ওইদিন ক্যাফেতে ঢুকে আইইডি রেখে এসেছিল।
৬। এনআইএ ও একাধিক কেন্দ্রীয় এজেন্সির সঙ্গে পুরোদস্তুর তদন্তে নামে কর্নাটক পুলিশ, কেরল পুলিশ ও তামিলনাড়ু পুলিশ। জানা যায়, দু'জনেই 'ইসলামিক স্টেট' জঙ্গিগোষ্ঠীর স্থানীয় মডিউলের সদস্য। চেন্নাইয়ের এক কাপড়ের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বোঝা যায়, দুই অভিযুক্তই চেন্নাইতে নাম ভাঁড়িয়ে ছিল। ব্যবহার করা হয়েছিল ফেক সিম কার্ড।
৭। দুই অভিযুক্তের মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করে এনআইএ। জীবিত অথবা মৃত যে কোনও অবস্থায় তাদের তথ্যের জন্য আবেদন করা হয়।
৮। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ত্বহা একজন তথ্যপ্রযুক্তি ইঞ্জিনিয়ার। এই পুরো কাজের জন্য টাকাপয়সা জোগাড় করতে সে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন করত। ক্রমশ স্পষ্ট হয় তাদের গতিবিধি। জানা যায়, তারা সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের দিকে পালিয়েছে।
৯। এনআইএ-র তরফে এবার সাবধান করা হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে। খবর পাওয়া মাত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে ভবানী ভবন ও লালবাজার। একাধিক পুলিশকর্তা এবার অনুসন্ধানে নামেন। জানা যায়, মধ্য কলকাতার হোটেলে একইভাবে নাম ভাঁড়িয়ে লুকিয়ে ছিল দুই অভিযুক্ত। শেষ অবধি পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় তাদের গতিবিধি চিহ্নিত করে পুলিশ। আসরে নামে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। গোয়েন্দারা দুই অভিযুক্তের সমস্ত গতিবিধি নজরে রাখতে শুরু করেন।
১০। অবশেষে, আজ, ১২ এপ্রিল শুক্রবার কাকভোরে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা।