
শেষ আপডেট: 8 December 2023 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্থ ও উপহারের বিনিয়মে সংসদে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে শুক্রবার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজ হয়েছে। তার পর ফের যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে আঠারো বছর আগের ঘটনা।
মূলত দুটি কৌতূহল এদিন মাথা তুলেছে। এক, ২০০৫ সালে প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত দশ সাংসদের রাজনীতিতে কী পরিণতি হয়েছিল? এবং দুই, তাঁরা কী কেউ আবার লোকসভায় ফিরতে পেরেছিলেন?
২০০৫ সালে টাকা ঘুষ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল দশ জন সাংসদকে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৬ জন ছিলেন বিজেপির সাংসদ। কোবরা পোস্টের স্টিং অপারেশনে তাঁদের লুকনো ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। প্রদীপ গান্ধী, ছত্রপাল সিংহ লোধা, আন্নাসাহেব এন কে পাটিল সহ বিজেপির সেই সাংসদরা আর লোকসভায় আসতে পারেননি। কিন্তু এঁদের অনেককেই পরে সংগঠনে জায়গা করে দিয়েছিল বিজেপি কিংবা বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করেছিল।
২০০৫ সালে প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডে অভিযোগ উঠেছিল রাজা রাম পালের বিরুদ্ধেও। তখন বহুজন সমাজ পার্টির সাংসদ ছিলেন তিনি। ক্যামেরার সামনে তাঁকে ৩৫ হাজার টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রাজা রাম পালকে ২০০৫ সালে বহিষ্কার করা হয় ঠিকই, কিন্তু ২০০৯ সালে ফের লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন তিনি।
২০০৫ সালে রাজা রাম পাল উত্তরপ্রদেশের বিলহৌর থেকে লোকসভা ভোটে জিতেছিলেন। ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে শিবির বদল করেন রাজারাম। তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। তার পর কংগ্রেসের টিকিটে আকবরপুর লোকসভা থেকে জিতে পঞ্চদশ লোকসভার সদস্য হন।
রাজা রামের উদাহরণ এই কারণেই প্রাসঙ্গিক যে সপ্তদশ লোকসভা থেকে মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করা হলেও আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফের প্রার্থী হতে পারবেন। তাতে কোনও অসুবিধা নেই। এমনকি এখন যদি কোনও বিধানসভা বা লোকসভার আসনে উপ নির্বাচন হয়, তাতেও প্রার্থী হতে বাধা নেই মহুয়ার।