1.webp)
রাহুল গান্ধী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শেষ আপডেট: 20 June 2024 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সংসদ উত্তাল করবে কংগ্রেসের নেতৃত্ব ইন্ডিয়া জোট। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেন, এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর জবাব দাবি করবে বিরোধীরা। যারা নিট প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি। রাহুল আরও বলেন, দেশের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এই সরকার।
এদিন নিট-ইউজি ২০২৪ এবং ইউজিসি-নেট পরীক্ষা নিয়ে রণং দেহী মুডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিদ্ধ করেন রাহুল। শুধু বিজেপির নীতি-আদর্শকেই কচুকাটা করে শান্ত থাকেননি। বিজেপির মস্তিষ্ক আরএসএসের নাম না করে তাদেরও শিক্ষা দুর্নীতির নেপথ্য কারিগর বলে দাগিয়ে দেন রায়বরেলির সাংসদ।
রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখন নিজের উপরেই ভরসা নেই। আগে যিনি ৫৬ ইঞ্চির ছাতি বলে দাপিয়ে বেড়াতেন, এখন তাঁর ছাতির মাপ ৩২-৩৩ ইঞ্চিতে এসে ঠেকে গিয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে যে 'ডর পয়দা' করেছিলেন মোদীজি, তা কেটে গিয়েছে। তা না হলে নিজেরই কেন্দ্র বারাণসীতে যাওয়ার পর তাঁর দিকে চপ্পল ছুড়ে মারে কেউ! এটা যদি ভোটের আগে হতো, তাহলে যিনি চপ্পল ছুড়ে মেরেছেন, তিনি মারা তো দূরের কথা, একথা ভাবতেও পারতেন না।
মোদীকে গিলোটিনে চাপিয়ে রাহুল গান্ধী প্রাক্তন বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ও মনমোহন সিংয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, আজ যদি বাজপেয়ী কিংবা মনমোহন সিংয়ের মতো নেতা থাকতেন, তাহলে তাঁরা অন্যভাবে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করতেন। তাঁদের মধ্যে একটা সহমর্মিতা, মমত্ববোধ ছিল। কিন্তু, এই প্রধানমন্ত্রী চলেন নিজের খুশিতে। কারও কথা শোনেন না। ওনার জোর ওনার এজেন্সি। কিন্তু, মানুষ যে আর ভয় পাচ্ছে না, তা লোকসভা ভোটেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।
রাহুলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী বলে থাকেন উনি যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নিজের দেশের প্রশ্নফাঁসই রুখতে পারেন না। এর পিছনে যে বিজেপির একটা বিরাট চক্র আছে তা বোঝাতে রাহুল বলেন, আপনারা দেখুন প্রশ্নফাঁসের কেন্দ্রস্থলগুলি কোথায়! গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, বিহার।
পরিকল্পনা করে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বদল করা হয়েছে অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে। নিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। ইউজিসি-নেট নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্নফাঁসকে দেশবিরোধী কাজ বলে উল্লেখ করেন কংগ্রেসের এই সাংসদ।
একইসঙ্গে নিট পরীক্ষার নিয়ামক সংস্থা এনটিএ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, যদি সৎ মানুষরা চাকরি পান, শিক্ষাব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পান, তাহলে তো এটা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু, উপাচার্য থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মাথায় বসানো হচ্ছে একটি দল বা মতবাদে বিশ্বাসীদের।
গোটা পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যায় রাহুল বলেন, দেশে এত বেকারি। ছাত্রছাত্রীদের উপর সবদিক থেকে চাপ আসছে। মোদী সরকার তা নিয়ে চিন্তিত নয়। আসলে মোদী এখন দুশ্চিন্তায় তাঁর সরকার টিকবে কি না। স্পিকার নির্বাচনের আগেই তাঁর সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে ঘুম ছুটেছে মোদীর, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটুকুও মাথাব্যথা নেই।