1.webp)
ডেমোক্র্যাট সরকারকে টানা দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে বহাল রাখতে পারলেন না কমলা হ্যারিস।
শেষ আপডেট: 7 November 2024 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বছরেই গোটা বিশ্ব দুটি বৃহৎ দেশের সাধারণ নির্বাচনের সাক্ষী হল। একটি ভারত, অন্যটি আমেরিকা। যে দুটি ভোটেই নির্বাচনের ইস্যু ছিল একই, কিন্তু ফল বিপরীত। ভারতের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সুদক্ষ কৌশলে যেখানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। বিজেপির বিভাজনের রাজনীতিকে বারবার হাতুড়ি মেরে জনমানসে সরকার-বিরোধী তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিলেন। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তা করতে ব্যর্থ হলেন। অপরপক্ষে বলা যায়, রাহুলের বহু চেষ্টা সত্ত্বেও নরেন্দ্র মোদী তৃতীয়বার গদি বাঁচাতে সক্ষম হলেও ডেমোক্র্যাট সরকারকে টানা দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে বহাল রাখতে পারলেন না কমলা হ্যারিস।
ভারত ও আমেরিকার ভোটের ইস্যু এবং প্রচার কৌশল অনেকটাই এক ছিল চলতি বছরে। শুধু তফাত এটুকুই যে, নাগরিকদের মনে তার প্রভাব এবং ভোটের ফল অন্যরকম হল। প্রায় ডুবন্ত দল কংগ্রেস এবং ঘুমিয়ে থাকা ইন্ডিয়া জোটকে সুদক্ষ কৌশলে মোদী-বিরোধী জাগরণে পরিণত করেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই কাজে অনেকটাই সফল বলা যায় বিরোধী দলনেতাকে। গণতন্ত্র রক্ষা, সংবিধান রক্ষা, ইভিএম নিয়ে সংশয় প্রকাশ এবং দেশের মানুষের সুরক্ষাকে তুলে ধরে মোদী তথা এনডিএকে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পেরেছিলেন।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীর কমলা হ্যারিসও প্রায় অনুরূপ কৌশলে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও শাসকদল হিসেবে সুবিধা তুলতে পারলেন না তিনি। রাহুল গান্ধীর সব চেষ্টা সফল না হলেও মোদীকে তিনি এনডিএ জোটের ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, একথা সত্য। রাহুল কংগ্রেসকে লোকসভা ডাবল সংখ্যায় (৯৯) হাজির করাতে পেরেছেন। কিন্তু, কমলা হ্যারিসের রাহুলের মতো প্রচারকাজেও তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ওভাল অফিসে দ্বিতীয়বার বসার ক্ষেত্রে দাঁড়ি টানতে পারলেন না।
ভোটের আগে রাহুল আক্রমণ শুরু করেন মোদী-বন্ধুদের। কিন্তু, কমলা হ্যারিস কোনও ট্রাম্প-বন্ধুদের বেঁধেননি প্রচারে। ভোটের আগে দুদেশই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সামাজিক বিভাজন এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে ছিল। এই অবস্থায় রাহুল তেড়েফুঁড়ে গৌতম আদানি ও মুকেশ আম্বানিদের কথা তুলে মোদীকে ক্রমাগত বিঁধতে থাকেন। যা সরকার বিরোধী হাওয়া তোলে দেশজুড়ে। কমলা কিন্তু ট্রাম্পের বন্ধু ইলন মাস্ক সহ অন্য কোটি কোটিপতি বন্ধুদের দিকে একটিবারও আঙুল তোলেননি।
রাহুল সোজাসুজি সংবিধান খতরে মে আওয়াজ তুলে মোদীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেও কমলার প্রচারে গণতন্ত্র বিপদে এমন বিশ্বাস জনসাধারণের মধ্যে ঢোকাতে পারেনি। রাহুল গান্ধী জাতপাতের রাজনীতি, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে মোদীকে কাঠগড়ায় তুললেও কমলা কৃষ্ণাঙ্গ ও হিসপানিক ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারেননি।
রাহুল বারবার মোদীকে ধনীদের বন্ধু বলে আঘাত হানতে পারলেও কমলা তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উলটোদিকে ট্রাম্পের প্রচারে দেশের অর্থনীতি, চাকরি এবং অভিবাসন নিয়ে খোঁচা অনেক বেশি কার্যকরী হয়েছে। রাহুল যেমন সরকারকে দেশের মানুষের চোখে শত্রুতে পরিণত করে দিয়েছিলেন, কমলা ছিলেন সরকারি দলের প্রার্থী। ফলে রাহুল যেভাবে শক্তিশালী আক্রমণ করতে পেরেছিলেন, কমলা হ্যারিস সরকারকে বাঁচাতেই প্রচারকে তুলে ধরায় মানুষের মনে দাগ কাটতে পারেননি।