
মোদী সরকার তাঁকে রক্ষা করে চলেছে।
শেষ আপডেট: 27 November 2024 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদানির জেলে থাকা উচিত। কিন্তু, সরকার তাঁকে রক্ষা করে চলেছে। বললেন রাহুল গান্ধী। বুধবার বিরোধী দলনেতা রাহুল ফের একবার আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক নিয়ে আক্রমণ করেন। কেন্দ্রের নিন্দা করে এদিন বলেন, মার্কিন আদালতে অভিযুক্ত হওয়ার পর আদানিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত। কিন্তু মোদী সরকার তাঁকে রক্ষা করে চলেছে।
সংসদ চত্বরে কংগ্রেসের রায়বরেলির সাংসদ রাহুল আরও বলেন, আদানিকে জেলে ভরা উচিত। আপনাদের কী মনে হয়, আদানি অভিযোগ স্বীকার করে নেবেন? নিশ্চই তিনি অভিযোগ অস্বীকার করবেন। আমাদের দাবি অনুযায়ী, তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত। সামান্য অভিযোগে শয়ে শয়ে মানুষকে যখন-তখন গ্রেফতার করা হয়। আর এই ভদ্রলোককে তো কয়েক হাজার কোটি টাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে মার্কিন আদালত। তাঁকে গোড়া থেকেই সরকার রক্ষাকবচ দিয়ে চলেছে, বলেন রাহুল গান্ধী।
সংসদের শীত অধিবেশনের তৃতীয় দিন, বুধবার মার্কিন আদালতে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে আলোচনার দাবিতে উত্তাল সংসদের দুই কক্ষ। বুধবার সভার শুরুতেই কংগ্রেসের দুই সভার সাংসদ মানিকম ঠাকুর, রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এবং মণীশ তেওয়ারি সভার শুরুতেই মুলতুবি প্রস্তাব পেশ করেন। আর তা নিয়ে সভা শুরু হতেই তুমুল হইচই শুরু হয়ে যায়। আদানি ইস্যু ছাড়াও দিল্লিতে অপরাধ বেড়ে যাওয়া, মণিপুর সমস্যা, সম্ভাল হিংসা নিয়ে মোট ১৮টি মুলতুবি প্রস্তাব আনা হয়। তার সবকটিই খারিজ করে দেন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়। বিরোধীরা রুখে দাঁড়ালে সভা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করে দেওয়া হয়। পরে সভা বসলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এদিনের মতো রাজ্যসভা মুলতুবি করে দেন চেয়ারম্যান।
এদিকে, এদিনই গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং কোম্পানির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বিনীত জৈনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি দুর্নীতি পরায়ণ আইনে (FCPA) কোনও অভিযোগ নেই বলে সাফ জানাল আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড। আদানি গোষ্ঠী ও আদানির বিরুদ্ধে যে প্রচার করা হচ্ছে তাকে অসত্য বলে জানিয়েছে কোম্পানি।
কোম্পানির তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গৌতম আদানি, সাগর আদানি ও বিনীত জৈনের বিরুদ্ধে এফসিপিএ-তে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি। কোম্পানির এই তিন ডিরেক্টরকে মূলত সিকিউরিটিজ প্রতারণা চক্রান্তের অভিযোগ রয়েছে, তাও কোনওটিই প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং দায়রা অভিযোগে সেদেশের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন যে অভিযোগ এনেছে, তাতে ঘুষ অথবা দুর্নীতির কোনও অভিযোগ আনা হয়নি।