
রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী।
শেষ আপডেট: 4 December 2024 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাহি জামা মসজিদে সমীক্ষা এবং তাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উত্তাল উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে চলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধী (Rahul and Priyanka Gandhi)। আজ, বুধবার সকাল থেকেই এই নিয়ে কড়া নিরাপত্তার বলয় সম্ভলে। সেইমতোই দিল্লি-উত্তরপ্রদেশের সীমান্তে গাজিপুরে আটকে দেওয়া হল তাঁদের। বিরাট পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে রুখে দেওয়া হয় তাঁদের গাড়ি। অনেকেই মনে করছেন, এই অস্থির সময়ে রণক্ষেত্র সম্ভলে রাহুল-প্রিয়ঙ্কার পা রাখে, প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
জানা গেছে, সম্ভলের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজেন্দ্র পেনসিয়া ইতিমধ্যেই পার্শ্ববর্তী জেলার আধিকারিকদের আগাম নির্দেশ দেন, যাতে রাহুল গান্ধীকে সীমান্তেই আটকানো হয় এবং তাঁকে সম্ভলে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়। আমরোহা, বুলন্দশহর, গাজিয়াবাদ ও গৌতম বুদ্ধ নগরের পুলিশ এবং প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে চিঠিও পাঠানো হয়। সেই মতোই গাজিপুরে বড়সড় ঝামেলা বাঁধে, রাহুলদের গাড়ি ঢুকতে গেলে। গোটা এলাকা যানজটে অবরুদ্ধ হয়ে যায়।
সম্ভলের শাহি জামা মসজিদ নিয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত ২৪ নভেম্বর। স্থানীয় আদালতের নির্দেশে মসজিদে ভিডিওগ্রাফি ও সমীক্ষা শুরু হতেই স্থানীয় সংখ্যালঘুরা খেপে ওঠেন।
১৯ নভেম্বর কেলা দেবী মন্দির কমিটির তরফে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আদালত শাহি জামা মসজিদের ভিডিয়োগ্রাফি সমীক্ষার নির্দেশ দেয়। আদতে মামলাকারীদের দাবি ছিল, এই মসজিদটি আগে শ্রী হরিনাথ মন্দির ছিল, যা ১৫২৯ সালে সম্রাট বাবরের আমলে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়। আদালতের নির্দেশেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সমীক্ষক দল মিলে মসজিদের ভিডিওগ্রাফি শুরু করে।
এর জেরে, সমীক্ষা চলাকালীনই স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের বিরুদ্ধে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে, পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীও পাল্টা পদক্ষেপ করে। একাধিক গাড়িতে আগুন লাগানো হয় এবং গুলি চালানোরও অভিযোগ ওঠে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন বন্দুকের গুলির শেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় চারজনের মৃত্যুও হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধী (Rahul and Priyanka Gandhi) সম্ভলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁদের সফর ঘিরে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনী, পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষত রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সম্ভলে যাওয়ার চেষ্টা তেমনই ইঙ্গিত করছে। এমনিতেই শাহি জামা মসজিদের এই সমীক্ষা শুধুমাত্র স্থানীয় নয়, জাতীয় স্তরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ কী হবে, তা দেখার অপেক্ষায় কার্যত গোটা দেশ।