.webp)
আর জি কর কাণ্ডে মোমবাতি জ্বেলে প্রতিবাদ। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 16 August 2024 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের পর সম্প্রতি লোকসভা ভোটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাম-বাম গোপন আঁতাঁতের পর আর জি কর কাণ্ডেও একই তত্ত্ব খাড়া করা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই, বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী থেকে সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত এই ঘটনায় তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁদের দাবি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অভিযুক্তদের আড়াল করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা এসব আজগুবি-অসহ্য যুক্তি খাড়া করছেন।
সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাতের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই অভিযুক্ত ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশের বিষয়টি লুকোতে চাইছেন। সেইদিন হাজারো মানুষ পথে নেমে প্রতিবাদ করেছে। ডাক্তারদের প্রতিবাদ মঞ্চ ভেঙে কারা লাভবান হয়েছে, প্রশ্ন তোলেন প্রবীণ সিপিএম নেত্রী। ওরা ডাক্তারদের প্রতিবাদের ভাষাকে চুপ করাতে চাইছে কেন! তৃণমূল ডাক্তারদের প্রতিবাদ-আন্দোলনের বিরোধী। তার মানে স্পষ্ট যে, প্রতিবাদ মঞ্চ ভেঙে তছনছ যারা করেছে তারা সকলেই তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। এবং মমতার সাম্প্রতিক বিবৃতিতেই তা পরিষ্কার।
বৃন্দার আরও দাবি, হাসপাতালের ভিতরে নারকীয় ভাঙচুর চালানোর ঘটনায় যারা গ্রেফতার হয়েছে, তাদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হোক। ওরা সকলেই তৃণমূলের গুন্ডা, এবং ওদের সকলেই চেনে। কেন তৃণমূলের গুন্ডারা হাসপাতালে ঢুকল ও পুলিশ ভয়ে পালিয়ে গেল। যখন বিষয়টি সামনে এল তখন পুলিশ কমিশনার কোনও তদন্তের আগেই কী করে নির্যাতিতার মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, জানতে চেয়েছেন বৃন্দা কারাত।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। রাম-বামের অভিযোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিরক্তিকর। মমতাদিদি যে অভিযোগ করেছেন, তা লজ্জাজনক। সেই দিন আর দূরে নয়, যখন মমতাদিদি তাঁর অপশাসনের জন্য ভিনগ্রহ কিংবা ভিনগ্রহের প্রাণীকে কাঠগড়ায় তুলবেন। মমতার বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে ধর্মেন্দ্র প্রধান যে ঘৃণ্য অপরাধ ঘটেছে তাতে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে লড়াই করার সময়। এই অবস্থায় মমতাদিদি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন যেখানে মানুষ চাইছে মহিলাদের নিরাপত্তা, দ্রুত বিচার ও তাঁর দিক থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা। বিজেপি এমপি সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, ওনার বক্তব্য ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতিকে তুলে ধরেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইও বলেন, উনি এই অপরাধের উপর চাদর চাপিয়ে দিতেই এরকমটা বলছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। যা ঘটেছে তা পুরোপুরি তৃণমূলের ষড়যন্ত্র। আর ওনার এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে, বিষয়টি তিনি আড়াল করতে চাইছেন। উল্লেখ্য, মমতা বলেছিলেন, রাজ্যে যা অস্থিরতা চলছে তা রাম-বাম মিলিত হয়ে করছে।