দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির ছবি
শেষ আপডেট: 16 November 2024 21:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেরাদুনে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় এবার চাঞ্চল্যকর দাবি পুলিশের। সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসতেই তদন্তকারীদের আশঙ্কা, গত ১১ নভেম্বর রাতে পড়ুয়াদের গাড়িটি একাধিক জায়গায় চক্কর কাটলেও গতি মোটের উপর স্বাভাবিক ছিল।
পাশাপাশি যে ট্রাকে ধাক্কা মেরেছিল গাড়িটি, সেই ট্রাকের গতিবিধিও নিয়ন্ত্রণে ছিল বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। কিন্তু তারপরেও কীভাবে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেল তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে তাতে দেখা গেছিল, মৃতদের মধ্যে কারও মাথা নেই, কারও দেহ গাড়ির ভিতরেই পিষ্ট হয়ে আছে। আবার রাস্তায় পড়ে রয়েছে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ! দুর্ঘটনার পর একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়।
তা দেখেই পুলিশের অনুমান, গাড়ির গতিবেগ বেশি না থাকলে কোনওভাবেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সবকিছুই নির্ভর করছে গুরুতর আহত ছাত্র সিদ্ধেশ আগরওয়ালের সুস্থতার উপরে। কারণ তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় না এলে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ জানা একেবারেই সম্ভব নয়। কিন্তু যেখানে সিসিটিভি ফুটেজে ট্রাক ও ঘাতক গাড়ির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ, সেখানে গাড়ির গতিবেগ বেপরোয়া না হলে কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তা নিয়েই চিন্তা বাড়ছে পুলিশের।
কিন্তু সাত পড়ুয়ার দল দুর্ঘটনার আগেই পার্টি করেছিল বলে খবর। সেই ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে আসতেই অনুমান করা হয় যে তাঁরা সবাই মদ্যপ ছিলেন। পার্টির পর রাত দেড়টা নাগাদ নেশার ঘোর কাটার আগেই গাড়ি নিয়ে চক্কর বেরোয় তাঁরা। এরপর ওএনজিসি চকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির সঙ্গে রেষারেষি শুরু করে। শেষমেশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা ট্রাকে ধাক্কা মারে তাঁদের গাড়ি। এক নিমেষেই সব শেষ। সজোরে ট্রাকের পিছনে ধাক্কা লেগে গাড়িটি কার্যত দুমড়ে-মুছড়ে যায়। এক ঝলকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না সেটি একটি আস্ত ইনোভা গাড়ি ছিল!
মৃতদের সকলকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের নাম কুণাল কুকরেজা (২৩), অতুল আগরওয়াল (২৪), ঋষভ জৈন (২৪), নব্যা গোয়েল (২৩), কামাক্ষী (২০), গুনীত (১৯)। এদের মধ্যে কুণাল হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা, বাকিরা সকলে দেরাদুনে থাকত। বাকি একজন সিদ্ধেশ আগরওয়াল (২৫) হাসপাতালে ভর্তি। এখন দুর্ঘটনার কিনারা করতে ভরসা একমাত্র সিদ্ধেশি। তাঁর বয়ানের পরই পুরো বিষয় পরিষ্কার হবে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।