
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 28 February 2025 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ ৭৫ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে পুণের ধর্ষণ কাণ্ডের (Pune Incident) অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তাকে খোঁজার জন্য স্নিফার ডগ থেকে শুরু করে ড্রোন (Drone) পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না যুবকের। শেষমেশ জল আর খাবারের জন্য ধরা পড়ে গেল সে! কীভাবে তার হদিশ পেল পুলিশ?
থানা থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে থাকা বাসস্টপের একটি বাসে তরুণীকে ধর্ষণ করেছে ওই যুবক। পুলিশ অনুমান করেছিল, সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে কিছুদূরের আখের ক্ষেতে লুকিয়ে ছিল সে। তাই তাকে খুঁজতে ড্রোন আনা হয়েছিল। আসলে আখ গাছের উচ্চতা মোটামুটি ১০ ফুট হয়। তাই আখের ক্ষেতে ঢুকে কাউকে খুঁজে বের করে আনা ভীষণ কঠিন কাজ হবে। এই কারণেই ড্রোন ব্যবহার করেছিল পুলিশ। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। অবশেষে জল-খাবারের চক্করে ধরা পড়ে সে।
পুলিশ জানিয়েছে, ছবি প্রকাশ করে ১ লক্ষ টাকা পুরষ্কার ঘোষণায় মূলত কাজ হয়েছে তাঁদের। অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে তো গেছিল কিন্তু খিদের জ্বালা তাঁকে কার্যত ধরিয়ে দিয়েছে। নিজের গ্রামে গিয়ে স্থানীয় এক বাড়িতে জল এবং অল্প খাবার চেয়েছিল সে। তাঁরাই তাঁকে বসিয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। তবে যুবককে গ্রেফতারের পর পুলিশ অনুমান করছে সে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে! কারণ তার গলায় মোটা দাগ দেখা গেছে। যদিও আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ।
গত মঙ্গলবার পুনের অন্যতম ব্যস্ত বাস টার্মিনালে সাতারা জেলায় নিজের বাড়ি ফেরার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন ওই তরুণী। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই যুবক প্রথমে তাঁকে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করে এবং জানায় যে সাতারা যাওয়ার বাস অন্য প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারপর তাকে নিয়ে যায় একটি খালি শিবশাহী এসি বাসে, যার ভিতরে কোনও আলো ছিল না। মহিলার সন্দেহ হলে তিনি বাসে উঠতে ইতস্তত করছিলেন, কিন্তু অভিযুক্ত তাঁকে আশ্বস্ত করে যে এটাই ঠিক বাস। বাসে উঠতেই অভিযুক্ত তাঁকে আক্রমণ করে এবং শেষমেশ ধর্ষণ করে।
অভিযুক্ত ৩৭ বছর বয়সি যুবক পুণের গুনাট গ্রামের বাসিন্দা এবং পুণে ও অহল্যানগর জেলায় একাধিক চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৯ সাল থেকে সে একটি মামলায় জামিনে মুক্ত ছিল। বিগত কয়েক মাস ধরে নিজেকে পুলিশ বলে পরিচয় দিয়ে সে নানা কাণ্ড ঘটাচ্ছিল বলে জানা গেছে।