
পূজা খেদকার
শেষ আপডেট: 17 July 2024 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাল নথি দিয়ে 'বিশেষভাবে সক্ষম' হওয়ার দাবি করে আইএএস অফিসার হয়েছেন তিনি। পূজা খেদকারের বিরুদ্ধে উঠেছে এমনই অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ট্রেনি অফিসার হওয়ার পরও তিনি পদের অপব্যবহার করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে বিতর্কের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে পূজা। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, এই জাল সার্টিফিকেট তিনি বানালেন কোথা থেকে। সেই উত্তর খুঁজতে গিয়েই জানা গেছে, একাধিক জায়গায় ভুয়ো নথি জমা দিয়েছিলেন তিনি।
ইউপিএসসিতে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার জন্য দুটি সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন পূজা। এখনও পর্যন্ত জানা গেছে, দুটির জন্যই ভুয়ো নথি জমা করেছিলেন। পুণের একটি হাসপাতাল থেকে ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ সংক্রান্ত সার্টিফিকেট পেতে বাড়ির যে ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন সেটা সম্পূর্ণ ভুয়ো। আবার জাল রেশন কার্ড বানিয়ে তার ভিত্তিতে নিজেকে 'বিশেষভাবে সক্ষম' বলে প্রমাণ করেছিলেন পূজা।
আপাতত যে তথ্য সামনে এসেছে তাতে দেখা গেছে, বাড়ির যে ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন পূজা সেখানে কোনও বাড়িই নেই। বরং রয়েছে একটি ইঞ্জিনিরায়িং সংস্থা। পূজার বিরুদ্ধে গাড়িতে অবৈধভাবে লাল বাতি লাগানোর অভিযোগ উঠেছিল। এখন জানা গেছে, যে গাড়িতে তিনি এই লালবাতি লাগিয়েছিলেন তা এই ইঞ্জিনিরায়িং সংস্থার নামে নথিভুক্ত করা।
বিতর্ক সামনে আসতেই জানা গেছিল, দিল্লি এইমস থেকে পূজাকে অন্তত ৯ বার ডাকা হয়েছিল শারীরিক পরীক্ষার জন্য। কিন্তু তিনি প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণে এড়িয়ে গেছিলেন। এতকিছুর পরও পূজা খেদকার কী ভাবে ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাস করলেন এবং ট্রেনি হিসেবে চাকরি পেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে এটাও অবশ্য সামনে এসেছে যে, এর পিছনে তাঁর বাবা দিলীপ খেদকারের 'অবদান' আছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই তিনি পূজাকে চাকরি করিয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
পূজার বাবা এবং মায়ের বিরুদ্ধে আলাদা করে মামলা দায়ের হয়েছে। জমি সংক্রান্ত ইস্যুতে তাঁদের বিরুদ্ধে কয়েকজন কৃষক এফআইআর দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যে পূজা মায়ের বন্দুক হাতে নিয়ে কৃষকদের ভয় দেখানোর ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। তা নিয়েও হইচই পড়ে যায়। অন্যদিকে, পূজার বাবা দিলীপ এক সাংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ে কোনও অপরাধ করেনি। বরঞ্চ তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে কেউ। তবে কে, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি তিনি।