
ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 13 April 2025 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের পর এবার ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন ঘিরে উত্তাল অসম। কাছাড় জেলার শিলচরে অশান্তি বাধে রবিবার। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, ছত্রভঙ্গ করা হয় উত্তেজিত জনতাকে।
এদিন শিলচরের চামরাগুড়াম, বেরেঙ্গা এবং পুরনো লক্ষ্মীপুর রোড এলাকায় সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্ল্যাকার্ড হাতে শ্লোগান তোলেন আন্দোলনকারীরা, সংশোধিত আইনটি ‘ইসলাম-বিরোধী’ এবং আইন প্রত্যাহার না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিতে থাকেন তাঁরা। এরই মাঝে কয়েকজন যুবক পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট মারতে শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কাছাড় জেলার পুলিশ সুপার নুমাল মহত্তা জানান, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ‘উপযুক্ত মাত্রায় বলপ্রয়োগ’ করেছে। তাঁর কথায়, 'প্রথমে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। পরে কিছু দুষ্কৃতী বিক্ষোভে ঢুকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করে। তবে আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। প্রায় ৩০০-৪০০ মানুষ ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। যারা শান্তি ভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
একজন বিক্ষোভকারী জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন এবং ইট ছোড়ার ঘটনায় তাঁরা মোটেই সমর্থন করেন না। তাঁর কথায়, 'আমরা শিলচরে শান্তিপূর্ণভাবে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলাম। আমরা এই আইনকে ইসলাম-বিরোধী বলেই মনে করি। তবে পুলিশের উপর ইট ছোড়া নিন্দনীয়। আমরা পুলিশের বিরোধিতা করছি না বরং যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিলে আমরা খুশি হব।'
এর ঠিক আগের দিনই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বড়মুখ করে বলেছিলেন, এই আইন ঘিরে অসমে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং তিনি রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানান। এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, 'আমাদের কাছে আগেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে শুক্রবার নমাজের পর বড় ধরনের প্রতিবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। গত পাঁচদিন ধরে অসম পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। আমরা সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং নিশ্চিত করেছি যাতে রাজ্যে কোনও হিংসা না ঘটে।' তারপরই এমন ঘটনায় হতাশ আন্দোলনকারীদেরই একাংশ।
ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। মুর্শিদাবাদে এই আইনের প্রতিবাদে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে শান্তি রক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। ত্রিপুরাতেও একই ইস্যুতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন।