.webp)
প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া ও রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 14 June 2024 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কেরলের ওয়ানাড কেন্দ্র ছাড়তে চলেছেন। কিন্তু, সেখানে গান্ধী পরিবারেরই কন্যা প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াকে পেতে চলেছেন লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারা। ফলে রাহুল গান্ধীকে হারানোর শোক ভুলে সেখানে এখন খুশির হাওয়া টগবগ করে ফুটছে। প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও নির্বাচনী অভিষেক শুরু করতে চলেছেন দাদার ৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ভোটে জেতা কেন্দ্র থেকে।
ওয়ানাডে ইতিমধ্যেই প্রিয়ঙ্কাকে প্রার্থীপদে চেয়ে কংগ্রেস কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার, ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছেন। সনিয়া-কন্যার কাছে তাঁদের অনুরোধ, রাহুল এই লোকসভা আসনটি ছেড়ে দিলে তিনি যেন তাঁদের দেখেন। বৃহস্পতিবার রাতের দিকে কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল গান্ধী এই কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দিলে ওয়ানাড কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রিয়ঙ্কার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
বোন প্রিয়ঙ্কাকে ভোট ময়দানে পরখ করাতে অনেকদিন ধরেই চাইছিলেন রাহুল গান্ধী। গত মঙ্গলবারই তিনি রায়বরেলিতে বলেছিলেন, বারাণসীতে যদি প্রিয়ঙ্কা দাঁড়াতেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২-৩ লক্ষ ভোটে পরাজয় নিশ্চিত ছিল। যদিও ওয়ানাডের মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে এসে রাহুল বলেছিলেন, ওয়ানাড না রায়বরেলি, কোনটি রাখবেন তা নিয়ে এখনও দ্বিধায় রয়েছেন তিনি। তবে রাজ্য কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছিল রাহুল গান্ধী তাঁর পারিবারিক খাসতালুক রায়বরেলিকেই ধরে রাখবেন।
রাজনৈতিক পর্যায়ক্রম বলছে, ২০১৯ সাল থেকে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী প্রত্যক্ষ নির্বাচনী আসরে নামবেন কি নামবেন না, তা নিয়ে বারংবার জলঘোলা চলছে। এবারেও রায়বরেলি, আমেঠিতে তাঁকে প্রার্থী করার জন্য সর্বস্তরে চাপ এসেছিল। এমনকী তাঁকে বারাণসীতে মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী করার ভাবনাচিন্তাও ভোটের ফলপ্রকাশের পর শোনা যাচ্ছে। কিন্তু, কংগ্রেস মহলের ভিতরের খবর হল, প্রিয়ঙ্কা ভোট-অভিষেকে কোনওমতেই রাজি হচ্ছিলেন না। তাঁর যুক্তি ছিল, তিনিও যদি লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়ে জিতে যান, তবে পারিবারিক রাজনীতির যে অভিযোগ মোদী-শাহরা তুলে থাকেন, তাতে সিলমোহর পড়ে যাবে। কারণ, একই পরিবারের তিন সদস্য সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের যে পরিস্থিতি ছিল, তাতে তাঁর সিদ্ধান্ত হয়তো সঠিক ছিল। কিন্তু, ভোটের ফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের অভাবনীয় সাফল্যে, বিশেষত দাদার পদাঙ্ক অনুসরণ করা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে জিতে বেরিয়ে আসা কোনও ব্যাপারই নয়। ফলে এখন লোহা গরম থাকতে থাকতে হাতুড়ি মেরে দেওয়াকেই সহজ বলে করছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। যাতে সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে।