রবিবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রকাশিত তালিকায় উঠে এসেছে আইন, কূটনীতি, সমাজকর্ম ও ইতিহাসচর্চার চারটি পরিচিত নাম— উজ্জ্বল নিকম, সি. সদানন্দন মাস্টার, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং মীনাক্ষী জৈন।

রাষ্ট্রপতি মনোনীত রাজ্যসভার সাংসদ
শেষ আপডেট: 13 July 2025 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) তরফে রাজ্যসভায় মনোনীত হলেন দেশের চার জন বিশিষ্ট নাগরিক। রবিবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রকাশিত তালিকায় উঠে এসেছে আইন, কূটনীতি, সমাজকর্ম ও ইতিহাসচর্চার চারটি পরিচিত নাম— উজ্জ্বল নিকম, সি. সদানন্দন মাস্টার, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং মীনাক্ষী জৈন। প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক শিবিরে এই মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনাও।
২৬/১১ মামলার মুখ্য আইনজীবী রাজ্যসভার সদস্য
সরকারি আইনজীবী হিসেবে যিনি ২৬/১১-র মুম্বই হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত কাসভকে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। সেই উজ্জ্বল নিকম এখন রাজ্যসভার সদস্য। শুধু কাসভই নয়, মুম্বইয়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, গুলশন কুমার হত্যা থেকে প্রমোদ মহাজন হত্যা— বিভিন্ন হাইপ্রোফাইল মামলার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন তিনি। ২০২৪-এ বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করলেও পরাজিত হন। কিন্তু তাঁর আইনজীবী জীবনের দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সংসদে প্রবেশ করছেন তিনি।
বিজেপি না পারলেও রাষ্ট্রপতির টিকিটে সংসদে শ্রিংলা
ভারতের প্রাক্তন বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রশাসনিক দক্ষতায় বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন। দার্জিলিং কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করার কথা উঠলেও শেষ পর্যন্ত রাজু বিস্তা টিকিট পান। কিন্তু এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে রাজ্যসভায় এলেন শ্রিংলা। কূটনীতি এবং জি২০-তে ভারতের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনে তাঁর অবদানকেই সংসদীয় স্বীকৃতি বলেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
দু'পা হারিয়েও থেমে যাননি, এবার রাজ্যসভার মঞ্চে সদানন্দন মাস্টার
কেরলের সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ সি. সদানন্দন মাস্টার, যিনি এক রাজনৈতিক হামলায় নিজের দুই পা হারালেও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছেন গ্রামের পর গ্রামে, তিনিও মনোনীত হয়েছেন রাজ্যসভায়। কেরলের একমাত্র বিজেপি প্রার্থী হিসেবে বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর পথ আটকাতে পারেনি— এই জীবনসংগ্রামেরই স্বীকৃতি এসেছে এবার সংসদ থেকে।
অযোধ্যা গবেষণার জন্য পরিচিত, ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনও রাজ্যসভার সদস্য
ইতিহাসবিদ হিসেবে জাতীয় স্তরে পরিচিত মীনাক্ষী জৈনের গবেষণা মধ্যযুগ ও ঔপনিবেশিক ভারতের ধর্ম-সংস্কৃতি ঘিরে। ‘রাম ও অযোধ্যা’ বিষয়ে তাঁর কাজ অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। ২০২০ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন তিনি। বর্তমানে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চে সিনিয়র ফেলো হিসেবে যুক্ত। এবার তাঁর মেধা ও গবেষণাকেই সম্মান জানাল রাজ্যসভা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির এই মনোনয়নে আইন, প্রশাসন, সমাজসেবা এবং ইতিহাসচর্চা— এই চারটি ক্ষেত্রের এক ব্যতিক্রমী সংমিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন রয়েছে আদালতকক্ষে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার ইতিহাস, অন্যদিকে রয়েছে সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করা শিক্ষক। আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী কূটনীতিক এবং ইতিহাসচর্চার শুদ্ধ ধারা— সব মিলিয়ে রাজ্যসভার মানসচিত্র আরও বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় হল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।