কারওয়ার নৌঘাঁটিতে আইএনএস ভাগশীরে ডুব-যাত্রা করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 29 December 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের নৌবাহিনীর ইতিহাসে আরও এক স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হল। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu) রবিবার কর্ণাটকের কারওয়ার নৌঘাঁটিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক সাবমেরিন আইএনএস ভাগশীর (INS Vaghsheer)-এ চড়ে ডুব-যাত্রা (dived sortie) সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের মাত্র দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাবমেরিন অভিযানের অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন। এর আগে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আব্দুল কালাম প্রথমবার এই নজির গড়েছিলেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক অভিযানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি নৌবাহিনীর সদস্যদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, ভারতের জলের নিচে যুদ্ধ করার ক্ষমতা যে কতটা শক্তিশালী, সেই বার্তাও স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। ‘ওয়েস্টার্ন সিবোর্ড মেসেজ’-এর মাধ্যমে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে যে দেশটি সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে, গভীর সমুদ্র থেকেই কৌশলগত নেতৃত্ব দিতে পারে।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কর্ণাটকের কারওয়ার নেভাল বেসে নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত কালভারি শ্রেণির সাবমেরিনে আরোহণ করেন। এটিই তাঁর প্রথম কালভারি ক্লাস সাবমেরিন যাত্রা। এই অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠী। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, “রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটি তাঁর প্রথম কালভারি ক্লাস সাবমেরিন যাত্রা এবং ভারতের রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে দ্বিতীয় এমন অভিযান।”

অভিযানের সময় রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়, ভারতের সমুদ্রসীমা রক্ষায় সাবমেরিন বাহিনী কীভাবে কাজ করে, তাদের শক্তি কতটা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় তারা কী ভূমিকা নেয়। পরে তিনি আইএনএস ভাগশীর-এর নাবিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের কাজের প্রতি নিষ্ঠা, পেশাদার মনোভাব ও নিঃস্বার্থ সেবার জন্য প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, "এই দেশীয় সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রস্তুতি, দক্ষতা এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকারের বড় প্রমাণ।" সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে তিনি নৌবাহিনীর পোশাক পরে সাবমেরিনে ওঠার আগে নৌসেনাদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তথ্য জানায়।
আইএনএস ভাগশীর হল পি-৭৫ স্করপিন প্রকল্পের ষষ্ঠ ও শেষ সাবমেরিন, যা জানুয়ারিতে নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। নৌবাহিনীর মতে, এটি নানা কাজে ব্যবহারযোগ্য একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন। শত্রু জাহাজ ও সাবমেরিন মোকাবিলা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং বিশেষ অভিযানে এটি কাজে লাগে। এতে আধুনিক অস্ত্র ও সোনার ব্যবস্থা রয়েছে, আর ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি যোগ করার সুযোগও আছে।

এর আগে ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি রাফাল যুদ্ধবিমানে উড়ে নজির গড়েছিলেন। এর ফলে তিনি ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন, যিনি দুটি ফ্রন্টলাইন আইএএফ বিমানে যাত্রার অভিজ্ঞতা পান। ভারতের ভবিষ্যৎ সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার কথা ভেবেই কারওয়ার নৌঘাঁটি তৈরি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির এই সাবমেরিন যাত্রা সেই প্রস্তুতিরই শক্ত বার্তা দেয়।