
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 June 2024 09:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বৃহস্পতিবার সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। নিয়ম হল নতুন লোকসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর যৌথ সভায় ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। ১৮তম লোকসভায় অধিবেশনে বৃহস্পতিবারই প্রথম ভাষণ দেবেন দ্রৌপদী মুর্মু।
রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপালের মতো সাংবিধানিক প্রধানদের ভাষণ আসলে সরকারের বক্তব্য। রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় সরকারের লিখিত ভাষণ পাঠ করে থাকেন। বৃহস্পতিবারের ভাষণে রাষ্ট্রপতির মুখ দিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকার আগামী পাঁচ বছরের কাজের অভিমুখ ঘোষণা করবে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, বাণিজ্য, সুরক্ষার মতো বিষয়ে সরকারের ভাবনার প্রতিফলন থাকে রাষ্ট্রপতির ভাষণে।
রাজ্য বিধানসভাগুলিতে রাজ্যপালের ভাষণে বাধাদানের অসংখ্য নজির থাকলেও সংসদের ক্ষেত্রে তা বিরল। রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদানের পর তা নিয়ে সংসদে বিতর্ক চলে। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভাষণ দেন। তার আগে ভাষণ দেন বিরোধী দলনেতা। এবার রাহুল গান্ধী বিরোধী দলনেতা হিসাবে কতটা আক্রমণাত্মক হন সেদিকে সকলের নজর থাকবে। তবে বুধবার স্পিকার নির্বাচন পরবর্তী ভাষণেই তিনি আভাস দিয়েছেন, সংসদে বিরোধীরা সরকারকে ছেড়ে কথা বলবে না।
বিরোধী শিবির থেকে জানা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে প্রচলিত রীতি থেকে এবার ইন্ডিয়া শিবির বেরিয়ে এসে প্রতিবাদে মুখর হতে পারে। ইন্ডিয়া'র শরিক দলগুলি জানাচ্ছে রাষ্ট্রপতির ভাষণে মূলত সরকারের ঢাক পেটানো হয়ে থাকে। কিন্তু এবার নির্বাচনের স্পষ্ট মোদী সরকার অনেক বেশি মানুষের আস্থা হারিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে তারা অর্ধেকের বেশি আসনে হেরে গিয়েছে। হাতছাড়া হয়েছে অযোগ্যর মতো জায়গা।
বিরোধীদের বক্তব্য, বেকারি, মূল্যবৃদ্ধির যন্ত্রণায় কাতর মানুষ এবার মোদী সরকারকে চায়নি। তাই বিরোধীরা দিগুণ আসন জিতে সংসদে ফিরেছ।
এই অবস্থায় সরকার রাষ্ট্রপতির মুখ দিয়ে নিজেদের পিঠ চাপড়ানোর চেষ্টা করলে বিরোধীরা মুখ বুজে থাকবে না। রাষ্ট্রপতির ভাষণে বেকারি, মূল্যবৃদ্ধির যন্ত্রণার কথা উল্লেখ না থাকলে বিরোধী সাংসদেরা ভাষণের মাঝেই সরব হবেন।
এই ভাবনার পিছনে বিরোধীদের আরও একটি কৌশল কাজ করছে। তা হল, এবার বিরোধী ইন্ডি জোট গোড়া থেকেই সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। পাল্টা সরকারও মাথা না ঝোঁকানোর কৌশল নিয়ে চলছে। বিরোধী দলের এক প্রবীণ সাংসদের কথায়, তেমন হলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রদান আলোচনা বয়কট করা হতে পারে। সংসদ স্বাভাবিকভাবে চালানো প্রাথমিকভাবে সরকারের কর্তব্য। সংসদে সরকার একতরফা ঢাক পেটানোর চেষ্টা করলে বিরোধী শিবিরও ছেড়ে কথা বলবে না।