
শেষ আপডেট: 8 March 2024 20:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশায় এবারও পালা বদলের সম্ভাবনা নেই। বিজু জনতা দল ফের দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে। ষষ্ঠবারের জন্য রাজ্য শাসনের ভার গ্রহণ করার ১৬৪ দিনের মাথায় নবীন পট্টনায়েকের হস্তগত হবে দেশের দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ডও, এখন যা সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিংয়ের দখলে রয়েছে। আর সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় নবীন দেশের সেরা মুখ্যমন্ত্রী স্বীকৃতি পেয়েছেন।
২০০৪ থেকে ওড়িশায় লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভার ভোট হয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তার উপর একাধিক প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় ইতিমধ্যে বলা হয়েছে, দুই ভোটেই স্যুইপ করবে বিজু জনতা দল। অর্থাৎ রাজ্য আবার শঙ্খধনীতে মুখরিত হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। রাজ্যের ২০টি লোকসভা আসনের আঠারোটির মতো পেতে পারে বিজেডি। অর্থাৎ হুবহু গতবারের ফলাফল। টানা পাঁচবারে শাসক দল বিজু জনতা দলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতারও কোনও হাওয়া নেই।
তারপরও বিজেপি ও বিজেডি-র মধ্যে আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। দুই দল সূত্রেই খবর, একান্তে নেতারা কথা চালাচ্ছেন। দু-পক্ষের মতের মিল হলে আসন বোঝাপড়া হবে।
নরেন্দ্র মোদী এবার চারশোর বেশি আসনে জিতে লোকসভায় ফিরতে চান। সেই স্বপ্নপূরণে রাজ্যে রাজ্যে শরিকের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। তারা অন্ধ্রপ্রদেশেও এনডিএ-র পুরনো শরিক তেলগু দেশম পার্টির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। জগনমোহন রেড্ডিকে সরিয়ে টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে চান। ফলে তাঁর বিজেপির হাত ধরার বাসনা থাকা স্বাভাবিক।
কিন্তু বিজু জনতা দল এবং মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক কেন বিজেপির হাত ধরার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন? প্রাক্ নির্বাচনী সব সমীক্ষাই যদিও বলছে তাঁর কোনও বিপদ নেই। লোকসভা ও বিধানসভায় তাঁর দলের জয়জয়াকার হতে চলেছে। তারপরও নবীন ও মোদীর মধ্যে ভোটের ময়দানে বোঝাপড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তীব্র হওয়ার পাশাপাশি এই প্রশ্নও ঘোরাফেরা করছে বিজেডি সুপ্রিমো কেন পদ্ম শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন।
রাজনৈতিক মহল থেকে কতগুলি কারণ জানা যাচ্ছে, নবীনকে বিজেপির হাত ধরার প্রস্তাব ভাবতে হচ্ছে। তারমধ্যে অন্যতম হল,
এক. এনডিএ-র গোড়াকার শরিক বিজেডি মোদী জমানায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে বিজেপির পাশে থেকেছে। সংসদে এবং সংসদের বাইরে তারা বিজেপির সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে যায়নি। বিজেপির পাশে থাকার বিনিময়ে ওড়িশা দিল্লি থেকে বাড়তি সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যসভায় বিল পাশ করাতে বিজেপির পাশে থাকার পুরস্কার কড়ায় গণ্ডায় আদায় করে নিয়েছেন নবীন।
কিন্তু আর কয়েক মাস পর রাজ্যসভাতেও বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ফেলবে। ফলে তখন আর বিল পাশ করাতে বিজেপির সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে না। নবীন বুঝতে পারছেন, মোদী ফের প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁর দলের আর আগের মতো বারগেনিং পাওয়ার বা দল কষাকষির ক্ষমতা থাকবে না। তখন ওড়িশার স্বার্থে বাড়তি রসদ আদায় কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে মোদী তথা বিজেপির সঙ্গে ভোটের আগেই বোঝাপড়া সেরে রাখা ভাল।
দুই. ২০৩৬ সালে রাজ্য হিসাবে ওড়িশার একশো বছর পূর্তি হবে। সেই কথা মাথায় রেখে নব ওড়িশা গড়ার কাজ এখনই শুরু করে দিয়েছেন নবীন। এই লক্ষ্যপূরণে প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থের জন্য কেন্দ্রের সহায়তা দরকার। নবীন দীর্ঘদিন ধরেই ওড়িশাকে আর্থিকভাবে দুর্বল রাজ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন যাতে বাড়তি আর্থিক প্যাকেজ কেন্দ্রের কাছ থেকে আদায় করা যায়। একই কারণে নীতীশ কুমার ভোটের আগেই ফের এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন। নবীনও মনে করছেন, ভোটের আগে মোদীর পাশে থাকলে পড়ে সুবিধা আদায় সহজ হবে। আসলে নীতীশের মতো নবীনও ধরেই নিয়েছেন মোদীই ফের দিল্লির কুর্সিতে বসতে চলেছেন।
তিন. নবীনের বয়স এখন ৭৭। আগামী পাঁচ বছর তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্ব করার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। তাঁর উত্তরসূরি দলে কে হবেন, তা নিয়ে বিজু জনতা দলে অন্তর্কলহ আছে। নবীন প্রাক্তন আমলা ভিকে পান্ডিয়ানকে উত্তরসূরি করবেন বলে জোর আলোচনা আছে ওড়িশার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। ক্ষমতার ব্যাটনের হাত বদলের সময় ঘরোয়া কোন্দলকে বিজেপি যাতে দলীয় স্বার্থে কাজে না লাগায় সেই ভাবনা থেকেও মোদীর সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি সুপ্রিমো।
নবীনের ভাবনা এবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আস্তে আস্তে নিজেকে আরও গুটিয়ে নেবেন। বয়সের থেকেও তাঁর প্রধান সমস্যা অসুখবিসুখ। কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগছেন বহুদিন। গত পাঁচ বছর কার্যত বাড়ি থেকেই অফিস করেছেন। অন্য মুখ্যমন্ত্রীদের তুলনায় জেলা সফর এবং অনুষ্ঠানে যোগদান কম করেন। তাঁর ভাবনা হল, মাঝপথে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেবেন। তবে দলের দায়িত্ব কারও হাতে সঁপবেন না।