
প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 10 July 2024 20:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে নিজের দল নিয়ে মাঠে নামতে চলেছেন ভোট-কুশলী প্রশান্ত কিশোর। ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিনে বিহারের চম্পারণ থেকে তাঁর জন সুরজ পার্টি যাত্রা শুরু করবে।
২০২২-এর ২ অক্টোবর গান্ধী স্মৃতি বিজড়িত চম্পারণ থেকেই জন সুরজ যাত্রা শুরু করেছিলেন প্রশান্ত। প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করেছেন কয়েক দফায়। বলেছিলেন, বিহারবাসীর ‘মান কি বাত’ শুনতেই এই যাত্রা। মানুষ চাইলে তখন দল করার কথা ভাববেন। বুধবার জানিয়েছেন, জন সুরজ পার্টি হবে দলের নাম। ২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন দল।
নতুন দল নিয়ে প্রথমেই নির্বাচনী ময়দানে নামার কথা জানিয়েছেন প্রশান্ত। আগামী বছরের নভেম্বরে বিহার বিধানসভার ভোট। ঠিক এক বছর আগে ময়দানে নামছেন তিনি।
কেমন হবে তাঁর দলের নির্বাচনী রণনীতি? এই ব্যাপারে বুধবার প্রাক্তন ভোট-কুশলী প্রশান্তের কথা জানার পর ফের তাঁকে ‘বিজেপির বি-টিম’ বলা শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাতে গলা মিলিয়েছে নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড এবং লালুপ্রসাদের রাষ্ট্রীয় জনতা দল।
প্রশান্ত ঘোষণা করেছেন ২২৫ আসনের বিহার বিধানসভায় তাঁর দল ৭৫টি আসনে মুসলিম প্রার্থী দেবে। প্রায় সমসংখ্যক দলিতকেও টিকিট দেবে তাঁর দল। প্রশান্ত বলেছেন, বিহারে মুসলিম ও দলিতরা দুটি দলের ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে। বাধ্য হয় দুটি দলকে ভোট দিতে। তাঁর দল এই দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে চায়।
ঘটনাচক্রে বিহারে লালুপ্রসাদ এবং নীতীশ যথাক্রমে প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীদের দলের ভোট ব্যাঙ্কের অন্যতম অংশ মুসলিম, দলিত এবং ওবিসিরা। নীতীশের দলের আছে অতি পিছড়া বা ইবিসি ভোট ব্যাঙ্কও। কিশোরের ঘোষণা অনুযায়ী সমাজের এই অংশকেও সামনের সারিতে নিয়ে আসতে চান তিনি।
বিহারের ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান কিশোরের ডাকে নিম্ন বর্গের মানুষ কতটা সাড়া দেবে তা নিয়ে সব মহলেই সংশয় আছে। তার চেয়েও বড় কথা কিশোর তাঁর দল নিয়ে মাঠে নামার আগেই গায়ে বিজেপির বি-টিম তকমা সেঁটে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহল এবং জেডিইউ, আরজেডি বলছে, বিজেপি যাতে বিহারে একক শক্তিতে ক্ষমতায় আসতে পারে, সেই কারণেই লালুপ্রসাদ ও নীতীশের দলের ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চাইছেন প্রাক্তন এই ভোট-কুশলী।
২০১৫ পর্যন্ত লালু ও নীতীশের সঙ্গে প্রশান্তের মধুর সম্পর্ক ছিল। ওই বছর তাঁর পরামর্শেই লালু ও নীতীশ হাত ধরাধরি করে ভোটে লড়াই করেন। বিপুল আসনে নিয়ে ক্ষমতায় ফেরে আরজেডি-জেডিইউ জোট। নীতীশ রাতারাতি প্রশান্তকে তাঁর দলের দু-নম্বর নেতা ঘোষণা করেন। দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ। কিন্তু সম্পর্ক টেকেনি দু’জনের। এখন দেখার বহু নেতাকে ভোটের লড়াইয়ে জয়ী করার কারিগর প্রশান্ত নিজে নির্বাচনী ময়দানে সফল হন কি না।