
প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 7 June 2024 22:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিস্তর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশ হতেই, সেই হিসাবের গরমিল দেখা গিয়েছে। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে প্রশান্ত কিশোর যে দাবি করেছিলেন, তা অক্ষরে অক্ষরে মিলেছিল। এবার কিন্তু তা হয়নি। বাংলায় বিজেপির ভোট সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর পূর্বানুমান মেলেনি। উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র নিয়েও তাঁর অনুমান ডাহা ফেল করে গেছে। যার ফলে প্রশান্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ পাওয়া তো দূর, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে একার ক্ষমতায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনও জিততে পারেনি বিজেপি। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের ফলাফলও ছুঁতে পারেনি গেরুয়া শিবির। পশ্চিমবঙ্গেও মাত্র ১২টি আসনেই থমকে গেছে বিজেপি। অপরদিকে, তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে ২৯টি আসন। কংগ্রেস একটি মাত্র আসনে জিতেছে, সিপিএমের খাতা শূন্য।
দীর্ঘদিন বাংলার ভোট নিয়ে চর্চা করার পরও এবারের লোকসভার ভবিষ্যদ্বাণীতে এতটা ভুল হল কী করে? ভোটের ফল ঘোষণার তিন দিনের মাথায় সেই ব্যাখ্যা দিলেন প্রশান্ত কিশোর। সঙ্গে এও বললেন, “মানছি ভুল বলেছি। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বাংলায় আমার অনুমান ঠিক ছিল না। আমি আর নম্বর গেমে যাব না।“ তাঁর আরও বক্তব্য, “আমি নম্বর ভুল বলতে পারি। কিন্তু বিজেপি যে ক্ষমতায় আসবে সেটা ভুল বলিনি।“
গত মাসেই প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এক নম্বর দল হিসাবে উঠে আসবে বিজেপি। বাংলায় ভাল ফল করবে। অনেকেই অবাক হয়ে যাবেন, কিন্তু আমার হিসাব অনুযায়ী লোকসভায় বিজেপি এক নম্বর দল হিসাবে উঠে আসবে।” কিন্তু সেই হিসাব মিলল না কেন?
প্রশান্তের কথায়, "বিজেপি হয়েতো ভেবেছিল যেখানে যাকেই প্রার্থী করব সেই জিতে যাবে। মোদী র্যালি করলেই জয় নিশ্চিত। আসানসোলে পবন সিং-কে প্রার্থী করল। কিন্তু প্রার্থী নিজেই দাঁড়াতে চাইলেন না। এরপর ওই কেন্দ্রে প্রার্থী খোঁজার জন্য অনেক দিন সময় নিল। শেষে শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে এসএস আলুওয়ালিয়াকে প্রার্থী করল। আসলে আসন অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচনেই হয়েতো গলদ ছিল। বিজেপির ‘দাম্ভিক’ মানসিকতা হয়েতো সমস্যায় ফেলেছে। প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে মানুষের মন বুঝতে ভুল হয়েছে।"
লোকসভা ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন- ‘অব কি বার ৪০০ পার’। ভোটের মাঝে পিকে-ও জানান, ৪০০ আসনের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও শ’তিনেক আসন বিজেপি ঠিকই পাবে। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। এই প্রসঙ্গেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর মতে, "৪০০ পার শ্লোগাল লেখাই ঠিক ছিল না। কেন ৪০০ পার তা কোথাও উল্লেখ করেনি বিজেপি। সমাজের এক শ্রেণি ভেবেছে, এটা হয় বিজেপির অহঙ্কার। আবার একাংশের মতে, হয়েতো ষড়যন্ত্র করে ৪০০ আসন পাবে বিজেপি। যার প্রভাব পড়েছে ভোটবাক্সে।
একইসঙ্গে প্রশান্ত মনে করেন, লোকসভার সঙ্গে আগামী কয়েক মাস বাদে হরিয়ানা, ঝাড়খন্ড, দিল্লিতে যে বিধানসভা ভোট হতে চলেছে তা ওত:প্রোতভাবে জড়িত। কারণ ওই তিন বিধানসভায় যদি বিজেপি ভালো ফল না করে তাহলে বিজেপির এখানকার পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।