বুঝে নিতে চাইছেন নিজের ব্যর্থতা। নির্বাচনে একটিও আসন না পাওয়ার পর দিনভর ‘আত্মঅনুশোচনা’ করাই তাঁর লক্ষ্য, জানালেন তিনি।

প্রশান্ত কিশোর
শেষ আপডেট: 20 November 2025 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের রাজনীতিতে (Bihar Election) বৃহস্পতিবার ছিল একদিকে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের দিন, অন্যদিকে আত্মসমালোচনারও। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (CM Bihar) হিসাবে দশমবার শপথ নিলেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। আর ঠিক সেই দিনই ভিটিহারওয়ার গান্ধী আশ্রমে নীরব ধ্যান, মৌনব্রত পালনে বসলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)।
বুঝে নিতে চাইছেন নিজের ব্যর্থতা। নির্বাচনে একটিও আসন না পাওয়ার পর দিনভর ‘আত্মঅনুশোচনা’ করাই তাঁর লক্ষ্য, জানালেন তিনি।
‘ভুল করেছি, কিন্তু অপরাধ করিনি’
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পিকে আগেই জানিয়েছিলেন, ২০ নভেম্বর তিনি গান্ধীর ভিটিহারওয়া আশ্রমে দিনভর উপবাসে থাকবেন।
তাঁর কথায়, “গত তিন বছরে যেভাবে কাজ করতে আমাকে দেখেছেন, তার দ্বিগুণ পরিশ্রম করব। পিছু হটার প্রশ্ন নেই। মানুষকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি— কেন তাঁদের ভোটের ধরন বদলানো উচিত। তাই প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ এই মৌনব্রত।”
তিনি আরও বলেন, “ভুল হতে পারে, কিন্তু কোনও অপরাধ করিনি।”
নীতীশের শপথে শক্তি-প্রদর্শন এনডিএর
এ দিনই পটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে দশমবারের মতো শপথ নিলেন নীতীশ কুমার। ২০০৫, ২০২০, ২০২৫— এই তিন মেয়াদের মতোই ফের সেই ঐতিহাসিক মাঠে রাজ্যের নতুন সরকার গঠনের ডাক। যে মঞ্চ থেকেই ১৯৭৪ সালে ‘সম্পূর্ণ বিপ্লব’-এর আহ্বান জানিয়েছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ।
শপথগ্রহণ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও এনডিএ-শাসিত রাজ্যের একাধিক মুখ্যমন্ত্রী—
হরিয়ানার নয়াব সিং সাইনি, আসামের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, নাগাল্যান্ডের নেইফিউ রিও, অন্ধ্রপ্রদেশের এন চন্দ্রবাবু নাইডু, উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি, প্রমুখ। ছিলেন বিহারের গভর্নর আরিফ মোহম্মদ খান এবং এলজেপি (আরভি) নেতা চিরাগ পাসওয়ানও।
বিহারের (Bihar Election) বক্তিয়ারপুরে ১৯৫১ সালে জন্ম নীতীশের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ‘জেপি আন্দোলন’-এর সময়। ১৯৭৭ সালের ভোটে প্রথম লড়লেও জয় আসে ১৯৮৫-তে। প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে দলবদল তাঁকে দিয়েছে ‘পল্টু রাম’ উপাধি। আবার প্রশাসনিক সাফল্যের জন্য গোটা রাজ্যে তিনি ‘সুশাসন বাবু’ বলেও পরিচিত।
বিজেপি প্রথম, জেডিইউ দ্বিতীয়— জন সুরাজ শূন্য
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট ফের বড়সড় জয় তুলে নেয়। বিজেপি পায় ৮৯ আসন, জেডিইউ ৮৫ আসন
অন্যদিকে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে লড়ে একটিও আসন জিততে পারেনি প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই আত্মবিশ্লেষণের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কিশোর। সেই পরিকল্পনারই অংশ তাঁর দিনভর নীরব ধ্যান।