
শেষ আপডেট: 9 February 2024 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগে কংগ্রেস ছেড়েছেন মুম্বইয়ের কংগ্রেস নেতা মিলিন্দ দেওরা। তার পর এবার কংগ্রেস ছাড়ছেন মুম্বই কংগ্রেসের নেতা বাবা সিদ্দিকি। তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্য ইডির নোটিস রয়েছে। সে থাক। এই দুই দলত্যাগী কংগ্রেস নেতাই গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
এবার রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে যা নয় তাই বললেন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা কংগ্রেসের এক সময়ের অন্যতম শীর্ষ সারির নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়।
My open letter 2 @RahulGandhi reg me & my father, a former President of India being subjected 2 vilest abuse with sexual connotation by @Naveen_Kr_Shahi who seem 2 b a close associate of Congress as he’s followed by many senior leaders & host of INC SM team members pic.twitter.com/kOwqWozlFd
— Sharmistha Mukherjee (@Sharmistha_GK) February 9, 2024
শর্মিষ্ঠার চিঠি লেখার প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন। প্রণববাবুকে নিয়ে তাঁর মেয়ে সম্প্রতি একটি বই লিখেছেন। সেই বইতে রাহুল গান্ধী সম্পর্কে প্রণবের মূল্যায়ন নিয়ে দীর্ঘ পরিচ্ছদ রয়েছে। তাতে এও লেখা রয়েছে, রাহুলের মনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে ঠিকই। কিন্তু রাহুল সেই বিষয়ের উত্তরটা কতটা বুঝতে পারেন তা নিয়ে প্রণবের সংশয় ছিল।
শর্মিষ্ঠার অভিযোগ ওই প্রকাশের পর কংগ্রেসের একাংশ কর্মী তাঁকে সোশাল মিডিয়ায় ট্রোল করছেন। তাঁর ও তাঁর বাবার সম্পর্কে কুরুচিকর কথা বলছেন। ওই সব টুইট নিয়ে রাহুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রথমে টুইট করেন শর্মিষ্ঠা। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তার পরই রাহুলের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে শর্মিষ্ঠা বলেন, আপনার অনুগামীরা ও আপনি হয়তো মনে করেন যে কংগ্রেস দলটি নেহরু-গান্ধী পরিবারের জমিদারি এবং সামন্তপ্রভুর মতো আপনারা খেয়ালখুশি অনুযায়ী যাঁকে যা ইচ্ছে পদ দেবেন এবং তাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আপনাদের দাসানুদাস হয়ে থাকবে। আপনারা এটা মনে করতেই পারেন। কিন্তু আমি তা মানি না। শর্মিষ্ঠার কথায়, এজন্যই এখন কংগ্রেসের এই অবস্থা।
কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা এদিন শর্মিষ্ঠার চিঠি দেখে বলেন, দলের কোনও কর্মী শর্মিষ্ঠা বা প্রণববাবুকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কুকথা বললে তা দুর্ভাগ্যজনক। কংগ্রেসে এবং ইন্দিরা ও মনমোহন জমানায় প্রণববাবুর অসীম অবদান ছিল। তাঁর সঙ্গে গান্ধী পরিবারের আস্খার ঘাটতি থাকতে পারে, কিন্তু সনিয়া ও রাহুল দুজনেই প্রণববাবুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন ও রয়েছেন।
কংগ্রেসের ওই নেতার কথায়, কোনও কর্মী বা কেউ শর্মিষ্ঠাকে ট্রোল করে থাকলে তা রাহুলের পক্ষে সবসময়ে খেয়াল রাখা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে শর্মিষ্ঠার চিঠি দেখে মনে হচ্ছে, উনি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন। লোকসভা ভোট আসছে, এখন গান্ধী পরিবারকে গালমন্দ করলে বিজেপির টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।