
ভারতে মুক্তি পেল চিনের জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিনেমা নে ঝা-২
শেষ আপডেট: 27 April 2025 16:32
ভারতে (India) মুক্তি পেল চিনের জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিনেমা নে ঝা-২ (Ne Zha-2)। চলতি সপ্তাহে মুম্বইয়ে কার্যনির্বাহী কনসাল জেনারেল ওং ওয়ের (Ms. Wang Awei, acting Consul General of China in Mumbai ) উপস্থিতিতে এক প্রেক্ষাগৃহে ভারতে ছবিটির প্রিমিয়ার হয়। প্রখ্যাত চিনা চিত্র নির্মাতা জিয়াও জি’র (Jiaozi) তৈরি সিনেমাটি চিনে বিপুল সাড়া ফেলেছে। নে ঝা ২ এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যানিমেটেড সিনেমা এবং সর্বকালের পঞ্চম সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জকারী ছবি। ইনসাইড আউট ২ (Inside Out-2-এর সাফল্যকেও হারিয়ে দিয়েছে এই সিনেমা।
গত শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব চিনের ফুজিয়ানে সফররত ভারতীয় ও চিনা সাংবাদিকদের এক আলোচনায় দু-দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে সিনেমার ভূমিকার প্রসঙ্গ ওঠে। ভারত ও চিন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ তম বর্ষ (75 years of India-China diplomatic relations) উদযাপন করছে এ বছর। আলোচনায় দু-দেশের সাংবাদিকেরাই একমত হন বিগত ৭৫ বছরে সিনেমাকে কূটনৈতিক এং নাগরিক স্তরে সম্পর্কের বিকাশে আরও বেশি ব্যবহারের সুযোগ ছিল। বিপুল বাজার রয়েছে। তাঁরা নান, চিনে ভারতীয় সিনেমা বিশেষ করে হিন্দি ছবি বেশ জনপ্রিয়।
বিগত দশ-পনেরো বছরে তৈরি বহু ভারতীয় সিনেমার প্রশংসা করেন তাঁরা। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তা খানিক অনুযোগের সুরে জানান, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পর পর দু’বছর তারা চিনা ছবি দেখাতে চেয়ে আবেদন করলেও সাড়া মেলেনি। তাঁরা চান চিনে ছোটদের তৈরি ছবিগুলিকে অন্তত চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হোক। অনুমতি পেলে তাঁরা চিনা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনেও আগ্রহী। কলকাতায় কর্তব্যরত চিনের কনসাল জেনারেল সু ওয়েও দিন কয়েক আগে এই বিষয়ে আক্ষেপ করেছেন। এই বিষয়ে চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের বক্তব্য, সংস্কৃতি মন্ত্রকের তালিকা থেকে বিদেশি সিনেমা বাছাই করা হয়ে থাকে। উৎসব কমিটি সরাসরি কোনও দেশকে ছবি প্রদর্শনীর অনুমতি দেয় না।
চিনা সাংবাদিকেরা জানান, গত শতকের ষাট-সত্তরের দশকে চিনে ভারতীয় সিনেমা ছিল বিদেশি সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। ক্রমে ছবি বিনিময় কমে গিয়েছে। ২০১৪ থেকে পরিস্থিতির বদল ঘটনোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi, Indian Prime Minister) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping, Chinese President) মধ্যে আলোচনার প্রেক্ষিতে দু-দেশের যৌথ উদ্যোগে সিনেমা তৈরি শুরু হয়েছে। ২০১৬-তে রিলিজ হয়েছে হুয়েন শাং, ২০১৭-তে কুং ফু যোগা। শুটিং চলছে বেজিং সাফারির।
চিনা মহাকাব্যের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি নে ঝা-২ সিনেমাটি ইতিমধ্যে বিশ্বের নানা দেশে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বন্ধুত্ব ও আত্মত্যাগের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। কাহিনির একটি চরিত্র নে ঝা এবং আও বিং-এর আত্মা বেঁচে থাকলেও, শরীর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই আর এক চরিত্র ই ঝেনরেন সাতরঙা পদ্ম দিয়ে তাদের শরীর পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করে। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে নে ঝা এবং আও বিং-এর গভীর বন্ধন। নে ঝা তার বন্ধুকে বাঁচাতে স্বর্গ পর্যন্ত ভেঙে ফেলতে প্রস্তুত। ৪ হাজার কর্মীর শ্রমে তৈরি ছবিটির প্রতিটি দৃশ্য চোখ ধাঁধানো। যুদ্ধ, ড্রাগন, রং, আলো, মা-ছেলের বিদায়, এমনকী ভিলেনদের অনুশোচনা—ছোট ছোট মুহূর্ত সিনেমাটিকে হৃদয়স্পর্শী করে তুলেছে। ছবিটির প্রতীকি বার্তা হল কীভাবে পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদ সভ্যতা আর উন্নয়নের নামে শোষণ চাপিয়ে দেয়। নে ঝা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।