
পলাতক ব্যবসায়ী মেহুল চোক্সি।
শেষ আপডেট: 14 April 2025 08:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পলাতক অলঙ্কার ব্যবসায়ী মেহুল চোক্সিকে (Mehul Choksi) গ্রেফতার করল বেলজিয়াম পুলিশ। ভারতীয় সময় সোমবার সকালে তাঁকে হেফাজতে নেয় সে দেশের পুলিশ। একটু পর তাঁকে স্থানীয় আদালতে তোলা হবে।
মেহুলকে ফিরিয়ে দিতে বেলজিয়াম সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল ভারত সরকার। প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত এরপর মেহুলকে ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি পেশ করবে বেলজিয়াম আদালতের কাছে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জালিয়াতির মামলায় নাম রয়েছে ওই ব্যবসায়ী। দেশ থেকে পালিয়ে বেলজিয়ামে গা ঢাকা দেন মেহুল ও তাঁর স্ত্রী প্রীতি। বেলজিয়ামের আগে তাঁরা অ্যান্টিগুয়া ও বারবুদায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
দেশে এই স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, বেআইনিভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে মামলা আছে। সেই মামলায় ভারতীয় পুলিশ, সিবিআই, ইডি তাঁকে খুঁজছিল। মেহুলের সঙ্গেই গা ঢাকা দেয় তাঁর ভাগ্নে নীরব মোদী। গীতাঞ্জলি গ্রুপের মালিক মেহুল ও ভাইপো নীরব ছাড়াও পরিবারের মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৩ হাজার কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ আছে। তাঁরা কাগজপত্র জাল করে প্রথমে ক্যারিবিয়াম দ্বীপপুঞ্জ অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব অর্জন করে সেখানে পালিয়ে যান। সেটা ২০১৭ সালের ঘটনা।
বেলজিয়ামে গ্রেফতারের পর মেহুল চোক্সি।
মেহুল, নীরবদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে তখন জাতীয় রাজনীতি সরগরম হয়েছিল। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল অভিযোগ তোলে গুজরাতের এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ ছিল। সিবিআই, ইডি, ইমিগ্রেশন সংস্থাকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে তাঁরা দেশ ছাড়েন এই প্রশ্নে তোলপাড় হয় দেশের রাজনীতি। তাঁর নামে দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াও ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি ছিল। এমন অপরাধী কীভাবে বিমান বন্দরে সব এজেন্সিকে ফাঁকি দিয়ে বিদেশ চলে গেলেন আজও সে প্রশ্নের জবাব মেলেনি। চোস্কির আইনজীবীদের দাবি তিনি ভারতের কঠোর আইনি প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে দেশ ছাড়েন। তাঁর স্বর্ণালঙ্কার সংস্থা গীতাঞ্জলির দেশে চার হাজারের বেশি শাখা আছে। সেই ব্যবসা আগের মতোই চলছে।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের অর্থ জালিয়াতির মামলায় মেহুলের সংস্থা ও ব্যাঙ্কের ছয়জন করে কর্মকর্তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁরা জেলে আছে। প্রতারণার টাকা মেটাকে মেহুলের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।