.webp)
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 28 May 2024 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের মুখে কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ রকে, যেখানে খোদ স্বামীজি ধ্যানস্থ হয়েছিলেন, সেখানে ধ্যান করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ৩০ মে, সপ্তম দফার ভোটপ্রচারের শেষদিন তামিলনাড়ুতে তিনদিনের সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ৩০ মে সন্ধ্যা থেকে ধ্যান মণ্ডপমে ধ্যান শুরু করবেন। সেই ধ্যান চলবে ভোটের শেষদিন ১ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রসঙ্গত, সপ্তম দফাতেই মোদীর নিজের কেন্দ্র বারাণসীতেও ভোট আছে।
লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশ হবে আগামী ৪ জুন। তার আগে বাল্যকালের শিবভক্ত নরেন্দ্রনাথ দত্তের মতোই একালের 'অবতার' (লালুপ্রসাদ যাদবের কথায়) শিবভক্ত নরেন্দ্র মোদী বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালের ধ্যান মণ্ডপমে ধ্যানমগ্ন থাকবেন বলে সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কন্যাকুমারী থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা দেবেন সন্ধ্যা নাগাদ। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশের আগেও উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথে একটি গুহায় ধ্যান করেছিলেন তিনি। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। পরে কেদার-যাত্রীদের কাছে সেই গুহা অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে ওঠে।
কেদারনাথ থেকে এক কিমি মতো হাঁটাপথে ১১ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতার ওই গুহা এখন রুদ্র ধ্যানগুহা নামে পরিচিতি লাভ করেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী, রুদ্রপ্রয়াগের জেলাশাসক জানিয়েছেন, গুহায় বিদ্যুৎ, হিটার, একটি সাধারণ শয্যা, বিছানা এবং একটি ছোট্ট স্নানাগার তৈরি করা হয়েছিল। বৈদ্যুতিক গিজার সহ সংলগ্ন শৌচালয় ছাড়াও একটি টেলিফোনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রর ধ্যানমঞ্চ হতে চলেছে আর এক নরেন্দ্রর ধ্যানস্থ হওয়ার স্থানে। উল্লেখ্য, বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীতে অবস্থিত হিন্দুদের একটি পবিত্র স্মারকস্থল ও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি কন্যাকুমারীর বাবাতুরাই-এর কাছে মূল ভূখণ্ড থেকে ৫০০ মিটার দূরে সমুদ্রের উপর অবস্থান করছে। বিবেকানন্দ রক ভারতের প্রধান স্থলভাগের দক্ষিণতম বিন্দু।
১৮৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বামী বিবেকানন্দ এখানে এসে এই শিলাখণ্ডের উপর বসে দীর্ঘক্ষণ ধ্যান করেছিলেন। এখানে বসে তিনি ভারতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করেন। তারই স্মৃতিতে ১৯৭০ সালে বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল কমিটি এখানে একটি স্মারকস্থল নির্মাণ করে।
প্রাচীন তামিল প্রবাদ অনুসারে, এই শিলাতে দেবী কুমারী বসে তপস্যা করেছিলেন। তাই এই শিলার আগেকার নাম ছিল শ্রীপদ পারাই (দেবী কুমারীর পদস্পর্শধন্য শিলা)। বর্তমানে শিলার উপর একটি ধ্যানমণ্ডপ নির্মিত হয়েছে। এখানে বসে পর্যটকরা ধ্যান করেন। ধ্যানমণ্ডপের স্থাপত্যে ভারতের নানা অঞ্চলের স্থাপত্যরীতির মিশ্রণ দেখা যায়। মণ্ডপের ভিতর স্বামী বিবেকানন্দের একটি মূর্তিও আছে। এখান থেকে আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থল দেখা যায়।