
শেষ আপডেট: 21 March 2024 07:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার সকালে দু’দিনের সফরে ভুটান যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার রাতে সফর বাতিল করা হয়েছে, ভুটানের পারো বিমানবন্দর এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে।
চলতি মাসেই ভুটানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ভারত সফরে এসেছিলেন। ১৪-১৫ মার্চ দিল্লি সহ একাধিক শহর ঘুরে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও ভুটান সফরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিদেশ মন্ত্রকের অফিসারদের কথায়, এই জাতীয় নিমন্ত্রণ কূটনৈতিক শিষ্ঠাচারের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী দ্রুত নিমন্ত্রণ রক্ষার সিদ্ধান্ত খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবারই দেশে প্রথম দফার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে। ঠিক এক মাসের মাথায় ১৯ এপ্রিল দেশের ১২০টি লোকসভা আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই সময় প্রধানমন্ত্রী প্রচারের ব্যস্ততা থেকে সময় বের করে পড়শি দেশে দ্বিপাক্ষিক সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমন নজির নেই বললেই চলে। ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন জি-২০ সম্নেলনে যোগ দিতে। তবে সেটা দ্বিপাক্ষিক সফর ছিল না। সম্মেলনের দিন-তারিখ ঠিক করাতেও ভারতের কোনও ভূমিকা ছিল না।
সেই কারণেই নরেন্দ্র মোদীর ভোটের ব্যস্ততার মধ্যে ভুটান সফর কূটনৈতিক মহলে বাড়তি মাত্রা পাচ্ছিল। যদিও, দু’দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কোনও চুক্তি সম্পাদনের কর্মসূচি ছিল না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম কর্মসূচি ছিল ভুটানের বর্তমান রাজা জিগমে খেসার নামগায়েল ওয়াংচুক এবং প্রাক্তন রাজা জিগমে সিংঙে ওয়াংচুকের সঙ্গে বৈঠক। এছাড়া ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কয়েক দফা কথা হত।
জানা যাচ্ছে, ভোটের ব্যস্ততার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফরের অন্যতম কারণ ছিল, পাহাড়ি প্রতিবেশী দেশটিকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতার বার্তা দেওয়া। সেই কারণে দ্রুত সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে সফরেরৃ সিদ্ধান্ত নেন মোদী।
আসলে নেপাল, শ্রীলঙ্কার মতো ভুটানের বিগত সরকারও চিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। চিন ও ভুটানের মধ্যে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই সীমানা বিরোধের কারণে। আগের সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেজিংয়ের সঙ্গে বোঝাপড়া করে সীমান্ত সমস্যা মিটিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছিলেন। নির্বাচন চলে আসায় পুরো কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। ঘটনাচক্রে ভুটানের সেই চিন ঘনিষ্ঠ সরকার এবার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। নতুন সরকারও যাতে চিনের দিকে ঝুঁকে না পড়ে সে জন্যই মূলত প্রধানমন্ত্রীর তড়িঘড়ি ভুটান সফরে যাচ্ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। দু দেশের কূটনৈতিক কর্তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী সফর সূচি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন।
আসলে চিন-ভুটান সীমান্ত বোঝাপড়া বাস্তবায়িত হলে তা ভারতের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, মনে করছেন নয়াদিল্লির নিরাপত্তা উপদেষ্টারা। তাই স্বয়ং মোদী উদ্যোগী হয়েছেন ভুটানের নতুন সরকারের সঙ্গে প্রথম থেকেই সদ্ভাব তৈরি করতে।