
শেষ আপডেট: 1 February 2024 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইলের প্রতি শিশুদের আসক্তি বরাবরই ছিল। তা বাড়ছিলও। কিন্তু কোভিডের পরবর্তী সময় পরিস্থিতি যেন আরও খারাপ হয়েছে। বাড়িতে থাকলেই কখনও পড়াশোনা করার জন্য কিংবা কখনও গেম খেলার জন্য কখনও আবার ইউটিউব দেখার জন্য মোবাইল নেওয়ার বায়না করে শিশুরা। আর কৈশোরে তো জেদ আরও বেশি। বাবা-মা মোবাইলে হাত দিলেই বাচ্চা রেগে আগুন। সরাসরিই বলে দেবে প্রাইভেসিতে নাক গলানো তারা একেবারেই পছন্দ করছে না। আর এদিকে মোবাইল নিয়ে এত গোপনীয়তা দেখে বাবা-মায়েরও টেনশনের শেষ নেই। তাহলে কি সন্তান উচ্ছন্নে গেল? এই এত গ্যাজেট-প্রেম ও গ্যাজেট-নির্ভরতা থেকে সন্তানকে বের করে আনার টিপস দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দশম ও দ্বাদশের বোর্ড পরীক্ষার আগে প্রতি বছরই ছাত্রছাত্রী ও তাদের বাবা-মায়েদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের নানা প্রান্তের পরীক্ষার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক ‘পরীক্ষা পে চর্চা’র আয়োজন করে। এ বছর তার সপ্তম সংস্করণ হয়েছে। আর এবার গ্যাজেট নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, সন্তানকে প্রাইভেসি দেওয়া ভাল, কিন্তু সন্তানের সুরক্ষার দিকটাও দেখা দরকার অভিভাবকদের। বাচ্চা মোবাইলে কী পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখছে সেটা জানা দরকার বাবামায়েরও।
‘মোবাইলের পাসওয়ার্ড বাবা-মা বা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করলে কী খারাপ হবে?’, পরীক্ষার্থীদের মজা করেই প্রশ্ন করেন মোদী। তাঁর কথায়, “এখনকার বাচ্চারা বাবা-মাকে মোবাইলে হাত দিতেই দেয় না। যদি কখনও অভিভাবকরা মোবাইলটা নিয়ে দেখেন, সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়েরা বলবে তুমি কে যে মোবাইলে হাত দিচ্ছো?”
যুগ বদলেছে, সময়ও। ডিজিটাল যুগে সবকিছুই আধুনিক। পড়াশোনাও গ্যাজেট নির্ভর। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, গ্যাজেটকে ভাল কাজে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। শুধু মোবাইল ফোনই নয়, কোন কিছুই অতিরিক্ত করা উচিত নয়। সব কিছুর একটা নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। তাতে জীবনের ভারসাম্য বজায় থাকবে। কোন জিনিস কতটা ব্যবহার করব, সেটা বুঝতে হবে। প্রযুক্তির পিছনে ছোটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, বরং প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বর্তমান সময়ে সন্তানের মোবাইল ফোনের আসক্তির জেরে নাজেহাল বহু মা-বাবা। এর প্রভাব তাদের পড়াশোনার উপরেও পড়ছে বলে প্রায়ই অভিযোগ করেন তাঁরা। মোবাইলে ফোনে আসক্তির জেরে দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এই প্রসঙ্গে ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট চেতনা লুথরা বলছেন, 'সাইবারসাইকোলজি বিহেভিয়র অ্যান্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং' জার্নালে একটি গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে। কমবয়সি থেকে বেশি বয়সিদের সাইকোলজির ওপরে গবেষণা করেছেন। মন কেন ভাল নেই? মুড কেন অফ? তার কারণ খুঁজে বের করেছেন মনোবিদরা। তাঁরা বলছেন, ইদানীংকালে এত বেশি মুড সুয়িং, ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের কারণ হল স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বেশি সময় কাটানো। স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে এই আসক্তি সবচেয়ে বেশি। এমনকি খাওয়ার সময়েও হাত চলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে। কে কী স্ট্যাটাস দিল, কার কোন ছবিতে লাইক-কমেন্ট পড়ছে বেশি, ফেসবুক পোস্টে কে কার সমালোচনা করছে, তার উত্তরে বাকিরা কী বলছে, আমার নাম এসবে নেই তো! এইসব ভেবেই মনের ওপর চাপ বাড়ে। তার থেকেই তৈরি হয় অ্যাংজাইটি।
তাছাড়া এখনকার কমবয়সিরা তাদের ব্যক্তিগত কথা বাবা-মায়ের সঙ্গেও শেয়ার করতে চায় না। কাজেই অনেকসময়েই এই অ্যাংজাইটি থেকে বড় বিপদ ঘটে যায়। মনোবিদ বলছেন, বাচ্চাদের ব্যক্তিগত পরিসরে স্বাধীনতা দিন ঠিকই, কিন্তু চোখে চোখেও রাখতে হবে। বাচ্চা মোবাইলে সর্বক্ষণ কী করছে, কী দেখছে, তার কী প্রভাব পড়ছে মনে এসব বিষয়েও ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। চেষ্টা করতে হবে গ্যাজেট থেকে মন সরানোর। দুশ্চিন্তা, চাপ, মনোরোগ, ঘুমের সমস্যা, স্বাস্থ্য, আত্মহত্যা, ও আসক্তি— এই সমস্যাগুলির অন্যতম কারণই হল এই অতিরিক্ত গ্যাজেট-প্রেম। সেখান থেকে সন্তানকে বের করতে না পারলে ভবিষ্যতে অনেক বড় বিপদের ঝুঁকি থেকে যাবে।