গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে প্রবল বিক্ষোভে অস্থির হয়ে ওঠে কাঠমান্ডুসহ একাধিক শহর। যুব প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন হয়।

নরেন্দ্র মোদী এবং সুশীলা কার্কি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালের (Nepal) সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর সমবেদনা আগেই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বৃহস্পতিবার তিনি নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির (Sushila Karki) সঙ্গে প্রথমবার ফোনে কথা বললেন। নরেন্দ্র মোদী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, এই সঙ্কটকালে নেপালের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকবে ভারত।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মোদী লিখেছেন, 'নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রাণহানির ঘটনায় আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছি। শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তাঁর প্রচেষ্টায় ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছি। পাশাপাশি আগামীকাল নেপালের জাতীয় দিবস উপলক্ষে তাঁকে এবং নেপালের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।'
নেপালে ‘জেন-জি’ আন্দোলন
গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে প্রবল বিক্ষোভে অস্থির হয়ে ওঠে কাঠমান্ডুসহ একাধিক শহর (Gen Z Protest)। যুব প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন হয়। নতুন অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি (Ex Chief Justice) সুশীলা কার্কি।
বিক্ষোভ চলাকালীন রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি, গুরুত্বপূর্ণ দফতর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং শপিং কমপ্লেক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। কাঠমান্ডুর রাস্তায় ফের গাড়ি ও মানুষের চলাচল দেখা যাচ্ছে।
নিহতদের স্মৃতিতে শোক দিবস
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, ১৭ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় শোকদিবস হিসেবে পালন করা হবে এবং দিনটি সরকারি ছুটি থাকবে। একইসঙ্গে, ‘জেন-জি মেমোরিয়াল পার্ক’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্তও নিয়েছে তাঁরা। এর আগে রবিবার প্রধানমন্ত্রী কার্কি ঘোষণা করেছিলেন, বিক্ষোভে নিহতদের ‘শহিদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
কে এই সুশীলা কার্কি
বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে আন্দোলনকারীদের কাছে লিখিত সমর্থন চান সুশীলা। শর্ত ছিল অন্তত ১,০০০ স্বাক্ষর। কিন্তু প্রথমেই ২,৫০০-রও বেশি স্বাক্ষর জমা পড়ে তাঁর পক্ষে। এরপরেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেন ছাত্র-যুব নেতৃত্ব। এমনকি, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা দেওয়া মেয়র বলেনও সমর্থন জানান কার্কীকে।
পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষিকা হিসেবে। পরে আইনজীবী এবং বিচারপতি। ২০০৬ সালে সংবিধান খসড়া কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত হন। ২০১৬ সালে নেপালের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি পদে আসীন হন কার্কী। তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী— নেপালের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি।
অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পদে আসার পর ভারত প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি এবং সম্পর্ক ভীষণ ভাল। ভারত সব সময় নেপালকে সাহায্য করেছে। তবে হাঁড়ি-কলসি একসঙ্গে থাকলে শব্দ হয়ই। দেশের সম্পর্কেও তাই।