
শেষ আপডেট: 10 June 2024 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদীর শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন একাধিক বিদেশি রাষ্ট্রনেতা। তাঁদের মধ্যে সবথেকে চর্চায় রয়েছেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুইজ্জু। 'চিনপন্থী' রাষ্ট্রনেতার জন্যই যে ভারতের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে তা মনে করে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ প্রেসিডেন্ট পদে আসার পর থেকেই তিনি পরপর ভারত-বিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁকেই মোদী তাঁর শপথগ্রহণে ডাকার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিলই। এবার দুজনকে দেখা গেল পাশাপাশি বসতেও।
রবিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ভবনে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁদের সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠকও হয়। সেই বৈঠকের যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে তাতে দেখা গেছে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের পাশেই বসে নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে একান্তে কিছুক্ষণ কথা বলতেও দেখা যায় তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রীকে। শুধু তাঁর সঙ্গে কথাই নয়, বিদেশি নেতাদের ঐক্যের বার্তাও দেন নরেন্দ্র মোদী। বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। এর জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিবেশীরাই অগ্রাধিকার পাবে বলেও বার্তা দিয়েছেন মোদী।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট পদে শপথের দিনই মুইজ্জু ভারতীয় সেনাকে দেশ ছাড়তে বলেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত-বিরোধী প্রচারও চালিয়েছেন তিনি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে মোদী শিবিরের জয়ের পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মুইজ্জু। সেই থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাবে কিনা। এরপর যখন মুইজ্জুকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হল এবং তিনি এলেন, তখন থেকে দুই রাষ্ট্রনেতার সম্পর্ক নিয়ে আরও আলোচনা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটে জেতার পর পড়শি দেশগুলিকে আরও কাছে টানার চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদী। পুরনো তিক্ত সম্পর্কগুলিকে শুধরে নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিনের যে প্রভাব তা কমজুরি করার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।
নয়া দিল্লির কর্তারা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে মুইজ্জু যে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে চিনের মদত ছিল। তাঁদের অনুমান, চিন ভারত মহাসাগরের উপর একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে। আর মালদ্বীপে ভারতীয় সেনা ও যুদ্ধ জাহাজের উপস্থিতি তাদের উপস্থিতির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই কার্যত মালদ্বীপের কাঁধে বন্দুক রেখে সে দেশ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করানোর চেষ্টা করেছে তারা।
১৯৮৬ সালে ভারতীয় সেনার সেই অবদানের পর মালদ্বীপের পরবর্তী সব সরকার 'ইন্ডিয়া ফার্স্ট' নীতি অনুসরণ করে এসেছে। কিন্তু নতুন রাষ্ট্রপতি তাদের তাদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করেন। মুইজ্জু দাবি করেছেন, তিনি ভারতের পরিবর্তে চিনের সঙ্গে সখ্য বাড়াচ্ছেন না। তিনি দেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে চান। এখন নরেন্দ্র মোদী ৩.০ সরকারের নীতি মালদ্বীপের ক্ষেত্রে কী হতে চলেছে তার দিকে অবশ্যই নজর থাকছে আন্তর্জাতিক মহলের।