
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 4 May 2025 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২২ এপ্রিল পহেলগামে হামলার ঘটনায় ফুঁসছে দেশ। ২৬ জনের মৃত্যু ভুলতে পারছেন না কেউই। এই পরিস্থিতিতে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল অমর প্রীত সিং। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শীর্ষস্তরের আলোচনার অংশ হিসেবে এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল।
দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গে এদিন অনুষ্ঠিত হয় বৈঠকটি। দীর্ঘ ৯০ মিনিট ধরে চলা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠী এবং বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল অমর প্রীত সিং।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এদিন দেশের সেনাবাহিনীকে ‘সম্পূর্ণ অভিযানে স্বাধীনতা’ (Full Operational Freedom) দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। অর্থাৎ সেনা বাহিনী নিজেরাই নির্ধারণ করবে সঠিক সময়, পদ্ধতি এবং লক্ষ্য—কখন ও কীভাবে পহেলগাম হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কয়েকদিন আগে নরেন্দ্র মোদী দেশের মন্ত্রিসভার দু'টি মূল কমিটির বৈঠকও আহ্বান করেছিলেন—ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) এবং ক্যাবিনেট কমিটি অন পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স (CCPA)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক বৈঠকগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া হতে পারে কড়া এবং সুনির্দিষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ভারত যে সরাসরি জবাব দিতেও প্রস্তুত, তা এই পরপর বৈঠকগুলি থেকেই স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, সিসিপিএ ‘সুপার ক্যাবিনেট’ বলেই পরিচিত, কারণ এই কমিটিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা থাকেন। এর আগেও ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর সিসিপিএ-র বৈঠক হয়েছিল, যার পরপরই ভারত বালাকোটে বিমান হানা চালায়। ফলে পহেলগাম কাণ্ডের পর আবারও এই কমিটির বৈঠক সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।