
শেষ আপডেট: 25 November 2023 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেটে গিয়েছে ১৩টা দিন। ১৪ দিনের মাথায় এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের। সুড়ঙ্গের ভিতর এখনও আটকে রয়েছেন ৪১ জন শ্রমিক। কখন ও কীভাবে তাঁদের উদ্ধার করা হবে সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। বারে বারেই উদ্ধারকাজ বাধা পাচ্ছে। ব্রিটিশ আমলের অগার মেশিন ভেঙে গেছে। কাজেই মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়ে, পাথর সরিয়ে রাস্তা তৈরি করা সম্ভব নয়। এবার ম্যানুয়াল ড্রিলিংই করতে হবে। শ্রমিকদের অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করতে এবার প্ল্যান-বি কাজে লাগানো হচ্ছে বলে খবর।
জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, লম্বালম্বি খনন করতে হবে। তাহলেই ৮৬ মিটার এইভাবে মাটি খুঁড়লে সিল্কিয়ারা টানেলের ধ্বংসাবশেষ অবধি রাস্তা পাওয়া যাবে।
অগার মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। কাজেই সেটি দিয়ে আর কাজ হবে না। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, হায়দরাবাদ থেকে আধুনিক প্লাজমা কাটার নিয়ে আসা হয়েছে। আগামীকাল থেকে ফের মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হবে। দল। শুক্রবার রাতে সুড়ঙ্গের ভিতরে লোহার পাইপে ধাক্কা লাগে, থামিয়ে দেওয়া হয় উদ্ধারকাজ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ড্রিলিংয়ে ব্যবহৃত অগার মেশিন। এবার শ্রমিক দিয়েই মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হবে। এটাই শেষ ভরসা।
সুড়ঙ্গে মাত্র ১০ শতাংশ ড্রিলিং বাকি রয়েছে। শ্রমিকরা এই অংশের মাটি কোদাল দিয়ে খনন করবে। পাশাপাশি প্লাজমা কাটার মেশিন ব্যবহার করা হবে। ১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে এই অংশের খনন করার জন্য। উদ্ধারকারী দলের তরফে জানানো হয়েছে, আটকে পড়া শ্রমিকদের থেকে আর ১২ মিটারের মতো দূরত্ব বাকি। এই অংশটা কোদাল দিয়েই খোঁড়া হবে। পাইপ দিয়ে ঢুকবেন দুজন শ্রমিক। একজন মাটি কাটবেন, অন্যজন ভাঙা পাথর-মাটি বের করে আনবেন। যে স্ট্রেচারে দড়ি বেঁধে শ্রমিকদের টেনে বের করে আনার পরিকল্পনা ছিল, সেই স্ট্রেচারেই ভাঙা মাটি-পাথর বের করে আনা হবে।
শ্রমিকরা যখন কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়বেন তখন ভার্টিকাল বা লম্বালম্বি খননকাজও শুরু হবে সুড়ঙ্গে। এই ভার্টিকাল ড্রিলিং হবে প্লাজমা কাটার মেশিন দিয়ে।
আজ ঘটনাস্থলে গিয়ে গোটা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী। তিনি বলেছেন, “শ্রমিকদের বের করে আনতে সবরকম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমার সঙ্গে কয়েকজনের কথা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন ভাল আছেন। সঠিক সময়ে খাবার-জল পাচ্ছেন সকলে। শ্রমিকদের একটাই দাবি, সুরক্ষিত ভাবে উদ্ধার করা হোক। মানসিক ভাবেও শক্ত রয়েছেন তাঁরা। বিকল্প পথে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়েছে।”