রিপোর্টে ডিপফেক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ফরেনসিক শক্তি বাড়ানো ও ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের কথাও বলা হয়েছে। তবে সবচেয়ে নজর কাড়ছে সোশ্যাল মিডিয়া, ডেটিং-গেমিং অ্যাপগুলিতে বাধ্যতামূলক KYC চালুর প্রস্তাব।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 24 March 2026 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন করে ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ব্যবহারে বড় বদল আসতে পারে, ঠিক এমনই ইঙ্গিত দিল সংসদের এক কমিটি। তাদের মতে, অনলাইন দুনিয়ায় ভুয়ো প্রোফাইল (Fake Profile), পরিচয় চুরি, হয়রানি ও সাইবার অপরাধ বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। তাই ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টকে KYC যাচাইয়ের (KYC verification) সাথে যুক্ত করা এবং বয়স যাচাই (Age verification rules) কঠোর করা এখন সময়ের দাবি। কাগজে-কলমে সহজ মনে হলেও, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় লগ-ইন করা থেকে শুরু করে প্রোফাইল তৈরি- সবকিছুই বদলে যেতে পারে।
সংসদীয় কমিটির কী সুপারিশ?
এই সুপারিশ এসেছে সংসদের মহিলা কমিটির চতুর্থ রিপোর্ট (2025–26) থেকে, যা সদ্য লোকসভা (Loksabha) ও রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) পেশ হয়েছে। রিপোর্টে ডিপফেক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ফরেনসিক শক্তি বাড়ানো ও ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের কথাও বলা হয়েছে। তবে সবচেয়ে নজর কাড়ছে সোশ্যাল মিডিয়া, ডেটিং-গেমিং অ্যাপগুলিতে বাধ্যতামূলক KYC চালুর প্রস্তাব।
কমিটির মতে, সব অ্যাপে বাধ্যতামূলক KYC যাচাই করা উচিত, যেন যেমনখুশি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করা না যায়। শুধু একবার যাচাই নয়, নিয়মিত রি-ভারিফিকেশন করা দরকার। বারবার রিপোর্ট হওয়া অ্যাকাউন্টগুলিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। লক্ষ্য- অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানো এবং বারবার অ্যাকাউন্ট বদলে অপরাধ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা (Social media misuse)।
এখনই কেন উঠছে এই প্রশ্ন?
সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপরাধ ভয়াবহভাবে বেড়েছে-
অশালীন বা অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া
অনেক ক্ষেত্রে দোষীকে খুঁজে বের করা কঠিন হয়, কারণ অ্যাকাউন্টগুলো প্রকৃত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে না। তাই KYC করলে অপরাধ রোধ করা সহজ হতে পারে- এই মত কমিটির। এছাড়া অভিযোগের নিষ্পত্তিও দ্রুত হতে পারে, কারণ প্রোফাইলের পেছনে থাকা বাস্তব পরিচয় জানা থাকবে।
তবে উদ্বেগও আছে
নিরাপত্তার পাশাপাশি গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। বাধ্যতামূলক KYC মানে আরও বেশি ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ—যার ফলে ডেটা লিক, নজরদারি বা অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। আবার ভারতের অনেক মানুষের কাছে এখনও বৈধ পরিচয়পত্র নেই। কঠোর KYC নিয়ম তাদের সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল পরিষেবার বাইরে ঠেলে দিতে পারে।
এখন কী অবস্থা?
কমিটি শুধু সুপারিশ করেছে, এখনও কোনও নিয়ম কার্যকর হয়নি। তবে যদি সরকার এই প্রস্তাব মানে, তা হলে ভারতে অনলাইন অভিজ্ঞতার ধরনই বদলে যেতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্ববোধও আরও বাড়বে। চলতি প্রজন্ম যেভাবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা গেমিং অ্যাপ (KYC for gaming apps) ব্যবহার করে এসেছে- আগামী দিনে হয়তো সেই অভ্যাসটাই নতুন নিয়মের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে যাবে।