
শেষ আপডেট: 14 November 2023 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে পরকীয়া সম্পর্ককে অপরাধ বলে ঘোষণা করার দাবি জানাল সংসদীয় কমিটি। গত সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে ভারতীয় দণ্ড সংহিতা বিল পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। সংসদে ওই বিল পেশ করার পর তা স্থায়ী কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই সংসদীয় কমিটির সুপারিশ, পরকীয়া সম্পর্কের জন্য মহিলা ও পুরুষ দুজনের জন্য সমান শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এক্ষেত্রে যেন লিঙ্গ বৈষম্য না থাকে।
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ জন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে মাইলফলক রায় ঘোষণা করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, পরকীয়া বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য কারণ হতে পারে, কিন্তু তা দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। সংসদীয় কমিটি সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের উল্টো কথা বলতে শুরু করল। সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বে বেঞ্চ জানিয়েছিল, ১৬৩ বছর ধরে যে ঔপনিবেশিক ভাবনা চলে আসছিল, তা ভেঙে বেরোতে হবে। স্বামী কখনওই স্ত্রীর প্রভু বা মাস্টার নয়।
ভারতীয় ফৌজদারি ব্যবস্থায় বর্তমানে যে তিনটি আইন ও নিয়ম রয়েছে (Indian Penal Code, Code of Criminal Procedure, Indian Evidence Act) তার পরিবর্তে নতুন দণ্ড সংহিতা আনতে চাইছে সরকার। সেই বিল এখন খতিয়ে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তার চেয়ারম্যান হলেন বিজেপি সাংসদ ব্রিজ লাল।
ওই স্থায়ী কমিটিতে কংগ্রেস সাংসদ পি চিদম্বরমও রয়েছেন। স্থায়ী কমিটিতে ডিসেন্ট নোট তথা তাঁর আপত্তি লিখিতভাবে জানিয়েছেন চিদম্বরম। তাঁর বক্তব্য, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানোর অধিকার রাষ্ট্রের নেই। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা দুঁদে আইনজীবী চিদম্বরম কিছু মৌলিক প্রশ্নও তুলেছেন। তাঁর কথায়, নতুন বিল পুরনো আইনেরই কপি-পেস্ট।
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের আগে আইনে বলা ছিল, কোনও পুরুষ যদি তাঁর স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনও বিবাহিত মহিলার সঙ্গে সঙ্গম করেন তাহলে তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। ওই মহিলার স্বামীর অজান্তে এই সঙ্গম হয়ে থাকলে ওই পুরুষের পাঁচ বছর হাজতবাসের সাজা হতে পারে। মহিলার কোনও শাস্তি হবে না।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সেই পুরনো নিয়মেই ফিরতে চাইছে। তবে তাদের মতে, মহিলারও শাস্তি হওয়া উচিত। পরকীয়া একার ইচ্ছেয় হয় না। দুজনেরই সম্মতি থাকে।