চিন ইস্যুতে উত্তাল পার্লামেন্টে ৮ সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, এনিয়েই সংসদের বাইরে কেন্দ্রকে তুলোধনা করলেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘‘দেশ বিক্রি করা হয়েছে’’।

রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 3 February 2026 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেই ফের অচলাবস্থা। লোকসভায় (Lok Sabha) মঙ্গলবার কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি। চিন প্রসঙ্গ ও প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা নিয়ে বক্তব্য ঘিরে বিরোধী-বিজেপি সংঘাত চরমে ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত আটজন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করতে বাধ্য হন স্পিকার।
সোমবারের অচলাবস্থার পর মঙ্গলবার সংসদ বসতেই বিজেপি সাংসদরা (BJP MPs) তীব্র আপত্তি জানান রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বক্তব্যে। অভিযোগ, প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ নরভানের (Manoj Naravane) এখনও প্রকাশ না হওয়া স্মৃতিকথা উদ্ধৃত করা হয়েছে, যা সংসদীয় নিয়মের পরিপন্থী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংসদে কেবলমাত্র প্রকাশিত ও যাচাইযোগ্য নথিই উদ্ধৃত করা যায়।
হট্টগোলের জেরে আট সাংসদ সাসপেন্ড
হট্টগোলের মধ্যেই কয়েকজন বিরোধী সাংসদের বিরুদ্ধে চেয়ার লক্ষ্য করে কাগজ ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে সংসদের মর্যাদাহানিকর বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করেন স্পিকার। শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে আটজন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মানিকম টাগোর (Manickam Tagore), গুরজিত ওঝা (Gurjeet Ojha), রাজা ওয়ারিং (Raja Warring), এবি ইডেন (Ebi Eden), কিরণ রেড্ডি (Kiren Reddy) এবং ভেঙ্কট রমন (Venkat Raman)।
বিজেপির দাবি, বিরোধীদের লাগাতার বাধার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দলীয় সূত্র জানায়, স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হবে এবং কঠোর শাস্তির দাবিও জানানো হবে।
সংসদের ভিতরে থামানো, বাইরে বিস্ফোরক রাহুল
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে না পেরে সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরও আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। চিন-ভারত সম্পর্ক ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাহুলের দাবি, ‘আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম, চিনের সঙ্গে কী ঘটেছে এবং প্রধানমন্ত্রী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সেটুকুও বলতে দেওয়া হল না।’
এরপরই বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘প্রধানমন্ত্রী আপস করেন’। রাহুল বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি (US-India trade deal) প্রবল চাপের মধ্যেই সই করা হয়েছে। মোদীজি ভীত। তাঁর ভাবমূর্তি ভেঙে পড়ছে বলেই এই তাড়াহুড়ো। দেশের পরিশ্রম বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।'
‘দেশ বিক্রি করা হয়েছে’, আদানী ও এপস্টিন ফাইলের উল্লেখ
রাহুল এখানেই থামেননি। আদানী (Adani) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমেরিকায় চলা মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ওটা আসলে মোদীজির বিরুদ্ধেই মামলা।’ পাশাপাশি এপস্টিন ফাইলস (Epstein Files) প্রসঙ্গ তুলে আরও বিতর্ক উসকে দেন। তাঁর দাবি, এই ফাইলস ঘিরেও প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপ রয়েছে।
যদিও এই অভিযোগ আগেই খারিজ করেছে বিদেশমন্ত্রক (Ministry of External Affairs)। জানানো হয়েছে, এপস্টিন সংক্রান্ত একটি ইমেলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২০১৭ সালের ইজরায়েল সফর (Israel visit, July 2017) ছাড়া অন্য সব ইঙ্গিত ভিত্তিহীন ও অবমাননাকর।
সব মিলিয়ে, বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই সংসদের ভিতরে ও বাইরে রাজনীতি তুঙ্গে। চিন, বাণিজ্যচুক্তি ও প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসযোগ্যতা—এই তিন অক্ষে ঘুরছে তর্ক। আগামী দিনে এই সংঘাত সংসদের অচলাবস্থা আরও বাড়াবে কি না, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।