
ছবিটি এআই দ্বারা নির্মিত (দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 5 May 2025 08:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরীক্ষায় খারাপ ফল অনেক সময়ই একজন পড়ুয়ার আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক অভিভাবকই সন্তানের ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে এমন কিছু বলে ফেলেন বা করে ফেলেন, যাতে মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। কিন্তু কর্নাটকের একটি পরিবার হাঁটল একদম উল্টো পথে। বাগলকোট জেলার ওই পরিবার দেখিয়ে দিল, ব্যর্থতা মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়, তা হতে পারে কোনও নতুন শুরুর প্রথম ধাপ।
বসবেশ্বর ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র অভিষেক চোলচাগুড্ডা। এবার দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় মাত্র ২০০ নম্বর পায় মোট ৬০০-র মধ্যে। অর্থাৎ মাত্র ৩২ শতাংশ নম্বর। ছয়টি বিষয়েই সে ফেল করে।
পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর, প্রত্যাশিতভাবেই সহপাঠীদের কটাক্ষ ও উপহাসের শিকার হতে হয় অভিষেককে। তবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন। যখন অনেক অভিভাবক রাগ বা লজ্জায় সন্তানকে তিরস্কার করতেন, তখন অভিষেকের বাবা-মা কেক কেটে ছোট্ট করে বিষয়টি উদযাপন করলেন।
তাঁদের একটাই বক্তব্য— 'পরীক্ষায় তুমি ফেল করেছ ঠিকই, কিন্তু জীবনে নয়। আবার চেষ্টা করলে তুমি নিশ্চয়ই সফল হবে।'
এই ভালবাসা ও সমর্থনে অভিভূত অভিষেক বলছে, 'আমি ফেল করেছি, কিন্তু আমার পরিবার আমাকে ভেঙে পড়তে দেয়নি। ওরা উৎসাহ দিয়েছে। আমি আবার পরীক্ষা দেব, পাশ করব এবং জীবনে সফল হব।'
ব্যর্থতার ভয়ে যখন একের পর এক আত্মহত্যা বা অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসছে, তখন এক বাবা-মায়ের এই পদক্ষেপ গোটা সমাজকে একটা বিরাট বার্তা দিয়ে গেল, তা বলা বাহুল্য। পরীক্ষায় ফেল করা মানেই জীবন শেষ নয়। অকৃতকার্য কোনও একটা ক্ষেত্রে কেউ হতেই পারে, তার জন্য যে অন্য কোনও দরজা খোলা নেই, এটা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।
এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে অনেকেই বলছেন, অভিষেকের মা-বাবার এই মানবিক পদক্ষেপ অবশ্যই সমাজে একটি আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত।