
গোপন ক্যামেরায় বন্দি বিজেন্দর গুপ্তা।
শেষ আপডেট: 25 June 2024 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিট-ইউজি ২০২৪ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করে ৩০০ কোটি টাকা রোজগারের ধান্দা ছিল। দেশের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস মাফিয়া চক্রের এক পান্ডা খোদ নিজের মুখে স্টিং অপারেশনে একথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, নিট কেলেঙ্কারিতে আনুমানিক ৭০০ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে দু-তিনশো কোটি টাকা কামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।
বিজেন্দর গুপ্তা নামে মাফিয়া চক্রের ওই পান্ডা এখনও পর্যন্ত ধৃত এবং পালিয়ে বেড়ানো সকলকেই চেনেন-জানেন। নিট দুর্নীতি নিয়ে এত হইচই, মামলা-মোকদ্দমা, সিবিআই তদন্তের বিষয়ে সাফ জানিয়ে দেন, কী হবে? সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র স্টিং ক্যামেরার সামনে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'জেল যায়েঙ্গে, ফির বেল (জামিনে মুক্তি), অউর ফির শুরু হোগা খেল।'
ইন্ডিয়া টুডে নিট পরীক্ষার দুর্নীতির অনুসন্ধানে একটি বিশেষ তদন্তদল তৈরি করেছে। এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকদল এখন তন্নতন্ন করে নেপথ্য কাহিনি খুঁজে বেড়াচ্ছে। তারাই বিজেন্দর গুপ্তা নামে চক্রের এক মাথাকে বের করে স্টিং অপারেশন চালায়।
বিজেন্দরই খোলামেলাভাবে প্রশ্নফাঁসের যাবতীয় কীর্তি ফাঁস করেন। বিজেন্দর নিজেও একাধিক প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে জড়িত ও অভিযুক্ত। পুলিশ দুবার তাঁকে গ্রেফতার করলেও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গিয়েছেন সহজেই। গত মার্চ মাস থেকে তাঁর একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। তাতে বলা ছিল নিট-ইউজির প্রশ্ন ফাঁস হতে পারে।
গুপ্তার কীর্তির মধ্যে রয়েছে, ২০২৩ সালে ওড়িশা স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস। বিহার পুলিশ সার্ভিস কমিশন এবং মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস। এই কাজে তাঁর ২৪ বছরে অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই ব্যবসায় নেটওয়ার্কই হল সবথেকে বড় হাতিয়ার। গোপন ক্যামেরার সামনে অকপট বিজেন্দর আরও জানান, কীভাবে প্রশ্ন পাঠানোর সময় তা বাক্স থেকে বের করা হয়। কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলি কীভাবে টেন্ডার হাতে পায়। বিজেন্দর বর্তমানে পালিয়ে বেড়ানো মুখ্য অভিযুক্ত সঞ্জীব মুখিয়া এবং ধৃত বিশাল চৌরাসিয়াকে চেনেন বলেও জানান।
তাঁর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি কোনও ফোন পেয়েছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে বিজেন্দরের দাবি, আমার ফোন নম্বর কেউ জানেই না। তাঁর কথায়, যখন ভুল কিছু প্রকাশ্যে আসে, তখনই চিৎকার-চেঁচামেচি হয়। নিট নিয়েও তাই চলছে। বিহারের আর্থিক দুর্নীতি দমন বিভাগের তদন্ত সঠিক পথেই চলছিল। জোর গলায় বিজেন্দরের দাবি, এনটিএ এর নাগাল পাবে না।
প্রশ্নফাঁসের জন্য একাধিক পদ্ধতি বা কৌশল ব্যবহার করা হয়। বিজেন্দর উদাহরণ দিয়ে বলেন, সরকারের ক্ষমতাশালী লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ। ছাপাখানার সঙ্গে যোগসাজশ এরকম বহু কিছু...। তিনি কী করে প্রশ্নফাঁস করতে সফল হন, এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন। বলেন, আপনি কি ভারতের সর্ববৃহৎ প্রশ্নফাঁস চক্রের মাফিয়া বেদি রামের নাম শুনেছেন? আমি জৌনপুরে তাঁর সহকারী হিসেবে হাত পাকিয়েছি। একজনকে চাকরি পাইয়ে দিয়ে জেল হয়েছিল আমাদের। বেদি রাম এখন উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের বিধায়ক, বলেন বিজেন্দর।
সঞ্জীব মুখিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, প্রশ্নফাঁস চক্রে তাঁর বছর দশেকের অভিজ্ঞতা আছে। ও সবসময় কানে ব্লু টুথ সেট লাগিয়ে রাখে। ৫৮ বছর কাছাকাছি মুখিয়ার বয়স। ৩০ কোটি টাকার মতো বাজারে ধার আছে। কিন্তু কোনওদিন এই চক্র ছাড়েনি। মুখিয়ার ছেলে শিব ইতিমধ্যেই জেলে ঢুকেছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসেও হাত আছে তার। কাউকে কতদিন আর গারদের ওপারে রাখা যায়!