
সোনালি ও তাঁর মেয়ের আঁকা ছবি
শেষ আপডেট: 18 February 2025 09:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথ দেখাল চার বছরের মেয়ে। মা যে আত্মঘাতী হয়নি, তা সে এঁকে বুঝিয়ে দিয়েছে। ঘটনা উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির। সোমবার, বছর ২৭-এর সোনালি বুধোলিয়ার বাড়ির লোককে ফোন করে তাঁর স্বামী জানান যে স্ত্রী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।
সবাই আত্মহত্যার কথাই জানত। তবে মেয়ের মৃত্যুতে তাঁর বাবা-মায়ের একটা সন্দেহ ছিলই। সোনালি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা ঠাওর করে উঠতে পারছিলেন না প্রতিবেশীরাও।
আত্মহত্যার ঘটনা হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশ তদন্তে নামে। মায়ের মুখাগ্নির আগেই পুলিশের কাছে আসল ঘটনা বলে দেয় সোনালির ছোট্ট মেয়ে। পুলিশকে সে জানায়, 'মা নিজে মরেনি, বাবা মেরে ফেলেছে। তারপর ঝুলিয়ে দিয়েছে।' শুধু তাই নয়, ছোট্ট দর্শিতা সেই দিন যা যা হয়েছিল, তা খাতায় আঁকিবুকি কেটে তৈরি করেও রাখে। পুলিশ আসতেই সেই খাতা তাদের হাতে তুলে দেয় সে।
পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মুখ বুজে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করছিলেন সোনালি। ২০১৯ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। সেই সময়ই পণ হিসাবে সোনালির বাবার কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন অভিযুক্ত।
নানা সময়েই নানা দাবি-দাওয়া করে যেতেন স্বামী। এমনকি শ্বশুরের টাকায় গাড়িও কিনতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু তা না মেলায়, স্ত্রীকে মারধর করতেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, সোনালির যখন মেয়ে হয়। অভিযুক্ত আশা করেছিলেন ছেলে হবে। কিন্তু মেয়ে হওয়ায় হাসপাতালেই নাকি স্ত্রী-কে ছেড়ে চলে যান তিনি। সেই মুহূর্তে সোনালির বাবা হাসপাতালে এসে টাকা মিটিয়ে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যান। দীর্ঘদিন অত্যাচারের পর শেষ পর্যন্ত মেরেই ফেললেন স্বামী।