কেন্দ্রীয় সরকারের ডিরেক্টর অর রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স এবং কাস্টমস বিভাগ সব সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পাকিস্তান তৃতীয় কোনও দেশে মালপত্র পাঠিয়ে সেখান থেকে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সৌদি আরব থেকে আসা একটি জাহাজে এমন পণ্য পাওয়া গেছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 May 2025 09:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২ মে থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য চুক্তি বাতিল (Trade ban on Pakistan) করে দিয়েছে ভারত। স্থল বন্দরগুলির মধ্যে একমাত্র পাঞ্জাবের আট্টারি (Attari border of Punjab) সীমান্ত দিয়ে মালপত্র আনা নেওয়া হত। সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাত্রী পারাপার চালু আছে। বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণার পরও সমুদ্র বন্দরগুলি নিয়ে বাড়তি সতর্ক ভারত সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারের ডিরেক্টর অর রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (Directorate of revenue intelligence) এবং কাস্টমস (customs) বিভাগ সব সমুদ্র বন্দর (Sea Port) কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পাকিস্তান তৃতীয় কোনও দেশে মালপত্র পাঠিয়ে সেখান থেকে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সৌদি আরব (Saudi Arabia) থেকে আসা একটি জাহাজে এমন পণ্য পাওয়া গেছে। এরপরই বন্দরগুলিতে সতর্ক করেছে দুই কেন্দ্রীয় সংস্থা।
২ মে থেকে বাণিজ্য বন্ধ করা হলেও আগে বুক করা সামগ্রীও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংস্থা সরকারের কাছে আর্জি জানায়, ২ মে’র আগে বুক হওয়া সামগ্রী আনা-নেওয়া করার অনুমতি দেওয়া হোক। নয়তো বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, ২ মে থেকে পাকিস্তানের জাহাজের ভারতের বন্দরে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। নোঙর করার মুখে বেশ কয়েকটি জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতি বিমা কোম্পানির কাছ থেকে পেয়ে যাওয়ার কথা আমদানি-রপ্তানি এজেন্সির।
ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স জানতে পেরেছে, পাকিস্তান দুবাই, কলম্বো হয়ে ভারতে শুখনো ফল পাঠাতে চাইছে। তারা ওই সব শহরের ব্যবসায়ীদের কাছে মালপত্র পাঠিয়ে দিচ্ছে। সেখান থেকে ভারতের আমদানিকারকদের কাছে তা আসার কথা। বন্দরগুলিকে বলা হয়েছে এই ধরনের পণ্যও প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
বাণিজ্য বন্ধের এই সিদ্ধান্তে অবশ্য নতুন করে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। ২০১৯-এ পুলওয়ামায় (Pulwama) আধা সেনার কনভয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলার পর থেকেই ওই দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে লাগাম টেনে দেয় নয়াদিল্লি। ২০১৮-’১৯ আর্থিক বছরে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য হয়েছিল মাত্র চার হাজার ৩৭০ কোটি টাকার। ২০২২’২৩ আর্থিক বছরে তা কমে হয় দু হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। ২০২৩-’২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছিল তিন হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা। যা দুটি দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মোটেই বড় অঙ্ক নয়। ভারত সরকারের ২ মে’র নির্দেশিকা অনুযায়ী বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের জাহাজ, পণ্যবাহী ট্রাককে ভারতের সীমান্ত পেরতে দেওয়া হবে না।