
এইসব মহিলাদের অধিকাংশই হলেন প্রাক্তন জঙ্গিদের স্ত্রী, বাচ্চা
শেষ আপডেট: 29 April 2025 17:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬০ জন পাকিস্তানি মহিলাকে বিতাড়নের কাজ মঙ্গলবার থেকেই তৎপরতার সঙ্গে শুরু করল জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। যাঁদের মধ্যে জঙ্গি হামলায় নিহত এক পুলিশকর্মীর মাও রয়েছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে এই মহিলাদের আটক করে পাঞ্জাবে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে ওয়াঘা সীমান্ত থেকে তাঁদের পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বিতাড়নের মুখে পড়া এইসব মহিলাদের অধিকাংশই হলেন প্রাক্তন জঙ্গিদের স্ত্রী, বাচ্চা ও পরিবারের লোক। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এর আগে যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন ২০১০ সালে জঙ্গি পুনর্বাসন নীতি নেওয়ার সময় অনেক জঙ্গি দল ছেড়ে ঘরে ফিরে এসেছিল। এঁরা তাদেরই স্ত্রী ও সন্তান বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
যাঁদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাঁদের মধ্যে ৩৬ জন শ্রীনগরের, বারামুল্লা ও কুপওয়ারার ৯ জন করে, চারজন বাদগাঁওয়ের এবং দুজন হলেন শোপিয়ান জেলার। শামিমা আখতার হলেন জম্মু-কাশ্মীরের স্পেশাল পুলিশ অফিসার মুদাসির আহমেদ শেখের মা। জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০২২ সালের মে মাসে মৃত্যু হয় মুদাসিরের। সেই শহিদের মাকেও পাকিস্তানে পাঠাচ্ছে সরকার।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ছদ্ম-কর্মী হিসেবে গোপন অপারেশন করতেন মুদাসির। পাকিস্তানি জঙ্গিদের কথা গোপনে জানতে পেরে তাঁরা অভিযানে বেরোন। তখনই জঙ্গিরা তাঁকে চর অভিযোগে খুন করে। মুদাসিরের কাকা বলেন, আমার বউদি পাকিস্তানের লোক নয়, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের। যা ভারতের অংশ। তাড়াতে হলে তাদেরই বের করা হোক যারা সত্যিকারের পাকিস্তানি।
মুদাসিরের কাকা মহম্মদ ইউনুস বলেন, ভাইপো শহিদ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, লেফটেন্যান্ট গভর্নর তাঁদের বাড়িতেও এসেছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমার ভাবি বিয়ে হয়ে যখন এখানে আসে, তখন তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর। সেই থেকে ৪৫ বছর সে এখানে রয়েছে। মোদী ও শাহের কাছে আমার অনুরোধ, ওঁকে যেন না তাড়ানো হয়।
যে মহিলাদের পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের মত, ওদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার থেকে মৃত্যুও ভাল। অনেকের কথায়, আমাদের জীবন্ত না পাঠিয়ে মেরে ব্যাগে ভরে পাঠিয়ে দিক ভারত। আলিজা রফিক উত্তর কাশ্মীরের বাসিন্দা। তিনি বলেন, স্থানীয় পুলিশ এসে জানায়, তাঁকে ঘরবাড়ি দেশ ছাড়তে হবে। আমার তিনটে বাচ্চা আছে। ওরা ছোট মেয়েকে এখানে রেখে চলে যেতে বলেছে। ও খুবই ছোট, কার কাছে আমি ওকে রেখে যাব?
একই কথা বলেন জাহিদা বেগম। তাঁর তিন ছেলে-মেয়ে। তিনি আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড দেখিয়ে বললেন, আমরা কোনও অপরাধ করিনি। তাহলে কেন আমাদের তাড়ানো হচ্ছে! আমার ছেলেমেয়েরাও এদেশ ছাড়তে চায় না। যদি তাঁরা পাকিস্তানে চলে যান, তাহলে গোটা পরিবারের জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। ওখানে কোনও ভবিষ্যৎ নেই। আমরা এখানেই শান্তিতে আছি, বলেন মহিলা।