
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 25 April 2025 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন, পাকিস্তান তিন দশক ধরে জঙ্গিদের প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ সহ সব ধরনের মদত জুগিয়েছে পাকিস্তান। ব্রিটিশ নিউজ চ্যানেল স্কাই নিউজকে আসিফ বলেন, আমরা প্রায় তিন দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে ব্রিটেনও অন্তর্ভুক্ত, তাদের জন্য এই 'জঘন্য কাজটি' করে আসছি। এটি আমাদের ভুল ছিল এবং আমরা এর জন্য ভুগছি।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পশ্চিমী দেশের হয়ে সন্ত্রাসবাদে সরাসরি যুক্ত থেকেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর এই মন্তব্য ভারতের সেই পুরনো অভিযোগকেই প্রমাণ করল, যেখানে বলা হয় পাকিস্তানের মদতেই বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটেছে। পহলগাম কাণ্ডের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ চরমে। আন্তর্জাতিক মহলে আসিফের এই স্বীকারোক্তিকে ভারত তার কূটনৈতিক কৌশলের পক্ষে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের উপস্থাপক ইয়ালদা হাকিম প্রশ্ন করেন, সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে তো অর্থ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের? এ প্রশ্নের জবাবে আসিফ ওই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যদি পাকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতে ৯/১১-এর পরে মার্কিন যুদ্ধে যোগ না দিত, তাহলে পাকিস্তানের ইতিহাস থাকত কলঙ্কিত হতো না। সন্ত্রাস নিয়ে বিস্ময়কর মন্তব্য করে আসিফ বলেন, লস্কর এখন আর নেই, এটা পুরনো নাম। TRF-এর ব্যাপারে আমার জানা নেই। অথচ পহলগাম হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার দায় স্বীকার করেছে TRF।
একই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ নয়াদিল্লিকে সতর্ক করে বলেছেন, পহেলগামে হামলার পর ভারতের পদক্ষেপগুলো দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে 'সর্বাত্মক যুদ্ধ' শুরু করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, দুটি দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বকে চিন্তিত হওয়া উচিত, কারণ উভয় দেশেরই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত বলেও জানান আসিফ। তিনি বলেন, ভারত যা কিছু শুরু করবে, তার প্রতি আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করে দেখব। ভারতের যাবতীয় ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেন পাক মন্ত্রী। যদি কোনও সর্বাত্মক আক্রমণ বা এরকম কিছু হয়, তাহলে অবশ্যই একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ হবে।