
পাকিস্তানই কয়েকশো কোটির অসামরিক বিমান চলাচলের রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হবে।
শেষ আপডেট: 28 April 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানি মদতে পহলগামে জঙ্গি হানার পর ভারতের উপর আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নিজেই ফাঁপরে পড়েছে ইসলামাবাদ সরকার। পাকিস্তান ভেবেছিল আকাশপথ ব্যবহার বন্ধ করলে ভারতের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হবে। কিন্তু, বাস্তব ঘটনা হচ্ছে পাকিস্তান তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের পায়েই কুড়ুল মেরেছে। পাকিস্তান ভেবেছিল এতে ভারতকে নাকানিচোবানি খাওয়ানো যাবে। বাস্তবে এর ফলে পাকিস্তানই কয়েকশো কোটির অসামরিক বিমান চলাচলের রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হবে।
কোনও দেশের আকাশপথ ব্যবহার করে যাওয়া বিমান সংস্থাকে সেদেশকে মূল্য চোকাতে হয়। ফলে পাকিস্তান এই রাস্তা নেওয়ায় ভারতের বিমানগুলি ঘুরপথ ব্যবহার করছে। যাতে প্রচুর শুল্ক বঞ্চিত হচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের এক নেট নাগরিক ভারতীয় একটি বিমানের ঘুরপথে উড়ানের ছবি দিয়ে পোস্ট করে লিখেছেন, অর লো পাঙ্গা। তাঁর ওই মন্তব্যের জবাবে এক্স দুনিয়ার সদস্য নরেন মেনন বলেছেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অসামরিক বিমান চলাচলের দেশ থেকে পাকিস্তান 'ওভারফ্লাইট ফিজ' থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যার পরিমাণ বছরে নিদেনপক্ষে কয়েক কোটি মার্কিন ডলার। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন সংগঠিত বোকামো আর কখনও দেখা যায়নি।
কিছু নেট নাগরিক এও মতপ্রকাশ করেছেন যে, ভারত থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমা পেরিয়ে প্রধানত আরব দুনিয়া ও পশ্চিমী দেশগুলিতে বিমান যায়। যেগুলি পরিচালনা করে এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো। তারা এখন ঘুরপথে বিমান চালানোয় পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ ডলার হাতছাড়া হচ্ছে। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে পুলওয়ামা জঙ্গি হানার পর পাকিস্তান একই ছক কষায় সেই সময় তাদের ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছিল। সেই সময় দিনে প্রায় ৪০০ বিমান পাকিস্তানি সিদ্ধান্তের কবলে পড়ে ঘুরপথে গিয়েছিল।
পাকিস্তানের মাথার উপর দিয়ে বোয়িং ৭৩৭ যেতে গেলে তাকে প্রতিটি উড়ানের জন্য ৫৮০ ডলার করে দিতে হয়। আরও বড় বিমানের বায়ুপথ শুল্ক আরও বেশি। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, সেই সময় পাকিস্তান প্রতিদিন ২,৩২,০০০ ডলার খুইয়েছে আকাশপথ আটকে। পহেলগামের পর পাকিস্তান ফের বর্তমান বাজারদরের হিসাবে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে।