রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের তালিবান নিষেধাজ্ঞা কমিটির সভাপতিত্ব পেল পাকিস্তান। পাশাপাশি, সন্ত্রাসদমন কমিটিতে তাদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
শেষ আপডেট: 8 June 2025 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের তালিবান নিষেধাজ্ঞা কমিটির সভাপতিত্ব পেল পাকিস্তান। পাশাপাশি, সন্ত্রাসদমন কমিটিতে তাদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিত্বের দাবি জানালেও, সেগুলিতে পাকিস্তানকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
চারটি কমিটির দাবিতে পাকিস্তান, স্বীকৃতি মিলল কেবল একটিতে
পাকিস্তান ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটি (আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট সংক্রান্ত), ১৫৪০ (পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ), ১৩৭৩ সন্ত্রাসদমন কমিটি এবং ১৯৮৮ তালিবান নিষেধাজ্ঞা কমিটির সভাপতিত্ব দাবি করেছিল। কিন্তু কেবল তালিবান সংক্রান্ত কমিটিতে সভাপতি এবং সন্ত্রাসদমন কমিটিতে সহ-সভাপতির পদ পেয়েছে তারা। নিউ ইয়র্কের এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের ‘ঐকমত্যের অভাব’ এবং ‘অযৌক্তিক দাবি’-র কারণেই নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা বিরক্ত হন। এর জেরে পদ বণ্টন প্রক্রিয়াও দেরি হয়।
কমিটিগুলির নেতৃত্বে কারা?
তালিবান কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছে রাশিয়া ও গায়ানা। ১২৬৭ কমিটিতে সভাপতি ডেনমার্ক, সহ-সভাপতি রাশিয়া ও সিয়েরা লিওন। ১৫৪০ কমিটির নেতৃত্বে ইকুয়েডর। সন্ত্রাসদমন কমিটির সভাপতিত্বে রয়েছে আলজেরিয়া। পাকিস্তানের পাশাপাশি ফ্রান্স ও রাশিয়া থাকছে সহ-সভাপতির পদে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ৫টি স্থায়ী (আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স), বাকিগুলি অস্থায়ী সদস্য। পাকিস্তান বর্তমানে অস্থায়ী সদস্য হিসেবেই এই সুযোগ পেয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, যে চারটি কমিটিতে তারা নেতৃত্বের আশা করেছিল, তার মধ্যে দু'টি ক্ষেত্রে সাফল্য না পাওয়াই প্রমাণ করে—তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কিছু হয়নি।
সম্প্রতি পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্ত সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগ জোরালো করেছে ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে পাক মাটিতে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছে নয়াদিল্লি। একাধিক দেশে প্রতিনিধি পাঠিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকাকে তুলে ধরা হয়েছে। এই আবহে জাতিসংঘে পাকিস্তানের নেতৃত্ব পাওয়া ভারতের কাছে বিরূপ হলেও, সূত্র বলছে—এই নেতৃত্ব কার্যত প্রতীকী এবং ভারতের কূটনৈতিক জোরে তাদের ক্ষমতা সীমিত রাখা সম্ভব।